কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ২০, আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর

কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ২০, আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর
কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ২০, আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে গণঅধিকার পরিষদ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রথম দফায় এবং মাগরিবের আজানের সময় দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে নিয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজার বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। সমাবেশ থেকে আমির হামজাকে বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার ১২ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়।

সমাবেশ শেষ হওয়ার সময় ওই রাস্তা দিয়ে পুলিশ প্রটোকলে নিজ বাসায় ফিরছিলেন সংসদ সদস্য আমির হামজা। তার গাড়িবহর ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা আমির হামজার সমর্থক ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী শরিফুল ইসলাম ও রাকিব হাসান বলেন, গাড়িবহরটি সমাবেশস্থলের কাছাকাছি পৌঁছালে একটি গাড়ি থেকে কয়েকজন লাঠি হাতে নেমে আসেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে রূপ নেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে কয়েক দফায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। এ সময় সংসদ সদস্যের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

আরও পড়ুন

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেলের দাবি, প্রথম দফার সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও পরে আবার লোকজন জড়ো হয়। মাগরিবের আজানের সময় লাঠিসোঁটা হাতে কয়েকজন গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ে গিয়ে হামলা চালান।

জানা গেছে, খবর পেয়ে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করছিলাম। আমাদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে নিয়ে আমির হামজার বক্তব্যের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি ছিল। সমাপনী বক্তব্যের সময় এমপির গাড়িবহর সেখানে আসে। এ সময় কয়েকজন জামায়াত কর্মী আমাদের সামনে এসে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেন এবং হামলা চালান।’

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আমির হামজার মুখপাত্র নাজমুল হোসাইন। তিনি বলেন, ‘গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা এমপির গাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন। এতে গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি আমাদের ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন।’

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, বিকাল থেকেই ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন ছিল। এমপির গাড়িবহর ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছানোর পর দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad