গাজার ধ্বংসস্তুপে চলছে ত্রাণ সরবরাহ 

গাজার ধ্বংসস্তুপে চলছে ত্রাণ সরবরাহ 
ভয়াবহ খাদ্য সংকটে গাজাবাসী। ছবি: এপি/ ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

অবশেষে যুদ্ধ বিধ্বস্ত গাজায় ত্রাণ সরবরাহ শুরু হয়েছে। জাতিসংঘ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ফলে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর কাজ ‘বাস্তব অগ্রগতি’ অর্জন করেছে। এই চুক্তি সাহায্য সংস্থাগুলোকে গাজায় তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণে সহায়তা করেছে।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, জাতিসংঘের মানবিক সাহায্য সমন্বয় অফিস জানিয়েছে, তাদের সাহায্য কার্যক্রম ‘ভালভাবে এগিয়ে চলছে।’ গাজা এখন একটি গভীর মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর সেখানে খাদ্য সরবরাহ ও অন্যান্য সাহায্য মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে ।

সংস্থাটি জানায়, বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচল ও প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধতা শিথিল হওয়ার ফলে তারা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় স্থানগুলোতে চিকিৎসা ও জরুরি সরঞ্জাম পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি উদ্বাস্তু পরিবারগুলোকে দেওয়া হচ্ছে শীতকালীন সহায়তা।

গত মার্চের পর প্রথমবারের মতো গাজায় দেওয়া হচ্ছে রান্নার তেল, টিনজাত খাবার, আটা, মাংস, তাজা ফল এবং ওষুধ।

এছাড়া, জাতিসংঘ বলছে, সহযোগী সংস্থাগুলোসহ তারা উত্তর ও দক্ষিণ গাজায় কয়েক লাখ গরম খাবার ও রুটি বিতরণ করেছে।

আরও পড়ুন

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের ভয়াবহ সংকটের মধ্যে মানবিক সাহায্য প্রথম অগ্রাধিকার হয়ে  দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল গাজার কিছু অংশে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি আছে বলে জানিয়েছে, এবং সাহায্যকারী সংস্থাগুলো গাজায় ত্রাণ প্রবাহে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ আরোপ করায়  ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করছে।

অবশ্য ইসরায়েল এই দাবি নাকচ করেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, গাজায় যথেষ্ট খাদ্য সরবরাহ রয়েছে।  তবে প্রমাণ ছাড়াই তারা এ-ও বলেছেন, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস নিয়মিত অনেক খাদ্য চুরি করছে।

জাতিসংঘের বিবৃতিতে জানানো হয়, তারা ইসরায়েলের অনুমতি নিয়ে আরো ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে, যার মধ্যে পানি, আশ্রয়, ওষুধ এবং অন্যান্য সামগ্রী রয়েছে।

জাতিসংঘের শীর্ষ মানবিক কর্মকর্তা টম ফ্লেচার বলেছেন, ‘গাজার প্রায় পুরো জনসংখ্যাই খাদ্য সাহায্যের প্রয়োজন, যার মধ্যে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষ মোকাবেলার পাশাপাশি জন্য চিকিৎসা সাহায্য দরকার।’ তিনি জানান, যুদ্ধবিরতির প্রথম ৬০ দিনের মধ্যে গাজায় যথেষ্ট সাহায্য পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

‘জাতিসংঘ গাজায় প্রতিদিন শত শত ট্রাক পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এরমধ্যে সেখানে খাদ্য সরবরাহ বাড়ানো, আশ্রয়ের ব্যবস্থা,  স্বাস্থ্যসেবা স্থাপন এবং জরুরি চিকিৎসা দল পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গাজায় বিশুদ্ধ পানি, সঠিক স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা এবং আবর্জনা সংগ্রহের মতো মৌলিক পৌরসেবা মেরামতের কাজেও করা হবে,’ বলেন ফ্লেচার।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad