লালমনিরহাটে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের ওপর বিএনপি নেতার হামলা

লালমনিরহাটে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের ওপর বিএনপি নেতার হামলা
অতিরিক্ত টোল আদায়ের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে দৈনিক মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান সাজুর ওপর হামলা করেন গোতামারী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নুর ইসলাম | ছবি: ভিডিও থেকে পাওয়া
Advertisement
Advertisement

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় অতিরিক্ত টোল আদায়ের সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। শুক্রবার বিকালে দইখাওয়া হাটে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত সাংবাদিকরা হলেন দৈনিক মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান সাজু এবং আনন্দ টিভির প্রতিনিধি আব্দুর রহিম।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত গোতামারী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নুর ইসলাম ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মজিবর রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হাতীবান্ধা থানায় মামলা করেন মামলা করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক আসাদুজ্জামান।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, দইখাওয়া হাটে নির্ধারিত তালিকার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টোল আদায় করা হচ্ছে–এমন তথ্য পেয়ে সেখানে সংবাদ সংগ্রহে যান ওই হামলার শিকার হওয়া দুই সাংবাদিক।

তারা হাটে গিয়ে দেখেন, ছাগল কেনাবেচায় ১১০ টাকার নির্ধারিত টোলের স্থলে ৩০০ টাকা এবং ১২১ টাকার পুরাতন সাইকেল কেনাবেচায় ৪০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

এই অনিয়মের ভিডিও ধারণ করতে গেলে বিএনপি নেতা নুর ইসলাম ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মজিবর রহমানের নেতৃত্বে একদল লোক সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। হামলাকারীরা আসাদুজ্জামানকে মারধর করে তার ব্যবহার করা মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেন। তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে আব্দুর রহিমকেও লাঞ্ছিত করা হয়। ফোন ফেরত চাইলে তাদের আবারও প্রহার করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও টাইমস অব বাংলাদেশের হাতে এসেছে।

পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। লালমনিরহাট প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন স্বপন বলেন, ‘এই হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত। আমরা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।’

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এস. আর শরিফুল ইসলাম রতন বলেন, ‘হামলাকারীদের আইনের আওতায় না আনলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর আন্দোলনে নামবে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুর ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে হাতীবান্ধা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad