ঈদুল ফিতর সামনে রেখে নতুন টাকার নোট পাওয়ার দীর্ঘদিনের যে সুযোগ ছিল, সেটি এবারও পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জন্য এই সুযোগ থাকছে।
গত বছরের মতো এবারও বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাণিজ্যিক ব্যাংকের কোনো শাখা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নোট বিতরণ করা হচ্ছে না।
এক সময় ঈদকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পুরনো নোট বদলে নতুন নোট নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো। পাশাপাশি কোনো কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা থেকে নতুন নোট দেওয়া হবে, তা জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সার্কুলার জারি করত।
এই ধারার পরিবর্তন শুরু হয় ২০২৪ সালে। সে সময় গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার দায়িত্ব নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরাসরি নতুন নোট বিনিময়ের ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওই বছর দেশের কয়েকটি ব্যাংকের ৮৪ শাখার মাধ্যমে নতুন নোট বিনিময়ের তালিকা প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
পরে ক্ষমতার পালাবদলের পর গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে আহসান এইচ মনসুর আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদ উপলক্ষে নতুন নোট বিতরণের পুরো কার্যক্রমই বাতিল করে দেন। ফলে গত বছর কোনো ব্যাংক থেকেই নতুন নোট দেওয়া হয়নি।
সেই ধারাবাহিকতায় এবারও ঈদ উপলক্ষে নতুন নোট বাজারে ছাড়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।
তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, গত বছর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদ উপলক্ষে নতুন টাকার নোট বাজারে ছাড়ছে না। এবারও তাই হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ কোনো উপলক্ষে নতুন নোট বাজারে ছাড়ে না। এটি সারা বছরের নিয়মিত কার্যক্রম। ব্যাংকগুলো প্রতিদিন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নতুন ও পুরনো নোট সংগ্রহ করছে।
তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ বন্ধ থাকলেও নতুন টাকার চাহিদা কমেনি। ঈদ সামনে রেখে অনেক গ্রাহক এখনো ব্যাংকে গিয়ে নতুন নোট সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
এদিকে সাধারণ মানুষের জন্য বিতরণ বন্ধ থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন নোট বিনিময়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি অভ্যন্তরীণ সার্কুলার জারি করে কর্মকর্তাদের জন্য নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। হাজিরাভিত্তিক নিয়োজিত কর্মীরাও এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন।
গত রোববার থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও টাকশাল, অর্থাৎ দ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই সুবিধায় নতুন নোট সংগ্রহ শুরু করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাহী পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নতুন নোট বিনিময় করতে পারবেন। অন্যদিকে, আউটসোর্সিংয়ের কর্মীরা সর্বোচ্চ ৬৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নতুন নোট নিতে পারবেন।
আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ চুক্তিভিত্তিক এসব কর্মীর মাসিক মজুরি সাধারণত সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা। ফলে দৈনিক হাজিরাভিত্তিক মজুরি পাওয়া একজন পরিচ্ছন্ন কর্মীও প্রায় সাড়ে তিন মাসের বেতনের সমপরিমাণ নতুন নোট নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতেও নতুন নোট সংগ্রহের সুযোগ কার্যত সীমিত। ব্যাংকারদের মতে, পরিচিত গ্রাহক বা বিশেষ অনুরোধ ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নতুন নোট পাওয়া যাচ্ছে না।


