শিক্ষা খাতে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ঈদের ছুটির পর শুভেচ্ছা বিনিময় ও বৈঠককালে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি ‘জুলাই বিপ্লব’-এ নিহত ও আহতদের সন্তানদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার জন্য ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও জুতা (কেডস) বিতরণ, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ঋণ সুবিধা এবং হাফেজে কুরআনদের সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়ার ওপরও জোর দেন। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণের জট দ্রুত সমাধানের জন্য একাধিক শিফটে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। জাতীয়করণকৃত ৫০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও কেডস বিতরণ করা হবে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে দ্রুত সারাদেশে তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
এ ছাড়া এক বছরের মধ্যে প্রাথমিক, কারিগরি, মাদ্রাসা এবং স্কুল-কলেজের সকল শিক্ষকের হাতে ট্যাব সরবরাহের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে উপজেলা পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াড চালু এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও বিতর্ক ক্লাব গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বলেন, এই কর্মসূচি দেশের মানুষের কল্যাণ ও তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লক্ষ্য, যোগ করেন তিনি।


