গ্যাসের তীব্র সংকটে পড়ে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলের ডাইনিংয়ে রান্না পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে হলের প্রায় ৫০০ আবাসিক শিক্ষার্থীর দুপুর ও রাতের খাবার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে গিয়ে খাবার খেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের, যা তাদের বাড়তি খরচ ও সময় ব্যয়ের পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
জিয়াউর রহমান হলের পাশাপাশি গ্যাসনির্ভর অন্যান্য আবাসিক হলগুলোর ডাইনিং পরিচালনা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কিছু হলে বিকল্প হিসেবে লাকড়ি দিয়ে রান্নার ব্যবস্থা থাকলেও সব হলে সেই সুবিধা নেই। ফলে সংকট দীর্ঘায়িত হলে সার্বিক খাবার সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মো. ওমর বলেন, ‘কোনো পূর্ব নোটিশ বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই হঠাৎ ডাইনিং বন্ধ হয়ে গেছে। এখন বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। এতে যেমন অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে, তেমনি সময়ও অপচয় হচ্ছে। দ্রুত বিকল্প উপায়ে ডাইনিং চালু করা দরকার।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দফতরের পরিচালক অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম সরকার জানান, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপকের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। মূলত জাতীয় পর্যায়ের সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যার কারণেই এ সংকট।
তিনি বলেন, ‘যেসব হলে বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা আছে, সেখানে রান্না চালু রাখার চেষ্টা চলছে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাকি হলগুলোতেও অস্থায়ীভাবে বাইরে চুলা বসিয়ে রান্নার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, মহেশখালী গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে দুর্ঘটনার পর জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। এতে আবাসিক ও সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের চাপ কমেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে তারা আশা প্রকাশ করছেন।
দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে উঠতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ ও সাধারণ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন রুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।


