গাছে গাছে ঝুলছে দৃষ্টিনন্দন ফুল আর কাঁচা-পাকা ফল। অন্য ফসলের তুলনায় অল্প খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় বিদেশ থেকে আসা ‘আনারকলি’ ফল চাষে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছেন কৃষকেরা। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে এই ফলের চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন স্থানীয় চাষিরা।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে জীবননগর উপজেলার কয়েকজন উদ্ভাবনী কৃষক ইউটিউবে ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হন। পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে আনারকলি ফলের চারা সংগ্রহ করে জমি প্রস্তুতের মাধ্যমে রোপণ করেন তারা।
গাছ লাগানোর মাত্র ছয় মাসের মাথায় থোকায় থোকায় ফুল আসতে শুরু করে। ফলগুলোকে সঠিকভাবে ধরে রাখতে এবং পচন থেকে রক্ষা করতে বাঁশের খুঁটি ও তার দিয়ে মাচা তৈরি করে দেওয়া হয়। বর্তমানে মাচায় মাচায় ঝুলছে কাঁচা ও পাকা আনারকলি ফল। আগস্টের শুরু থেকে এই পাকা ফল তোলা শুরু হয়েছে এবং তা ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করা হচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এক বিঘা জমিতে প্রায় ১২০ থেকে ১৩০টি আনারকলির চারা রোপণ করা যায়। এক বিঘা জমিতে চারা রোপণ, মাচা তৈরি ও পরিচর্যা বাবদ মোট খরচ হয় প্রায় ১ লাখ টাকা। আনারকলি মূলত বিদেশি ফল হলেও চুয়াডাঙ্গার উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়া এর চাষের উপযোগী হওয়ায় চাষিরা সহজেই সফলতা দেখছেন। বর্তমানে জীবননগর উপজেলার প্রায় ১০ বিঘা জমিতে এই ফলের চাষ ছড়িয়ে পড়েছে।
উপজেলার সফল চাষি ইউসুফ আলী বলেন, ‘সঠিক পরামর্শ আর নিয়মতান্ত্রিক পরিচর্যা করা গেলে আনারকলি চাষ অত্যন্ত লাভজনক একটি কৃষি উদ্যোগ। প্রথম বছরই গাছে যে পরিমাণ ফল এসেছে, তাতে বেশ আশাবাদী।’
কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘা জমি থেকে মৌসুমে প্রায় ৩০ মণ পর্যন্ত আনারকলি ফল পাওয়া সম্ভব, বর্তমান বাজারে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ খরচ বাদ দিয়ে এক বিঘাতেই মোটা অঙ্কের নিট মুনাফা থাকছে।
জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, ‘জীবননগরের মাটি যেকোনো ধরনের ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি বিভাগ থেকে আমরা কৃষকদের নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। এ বছর জীবননগরে পরীক্ষামূলকভাবে আনারকলির চাষ শুরু হলেও প্রথম বছরেই চমৎকার ফলন মিলেছে। আশা করছি, আগামী মৌসুমে এই এলাকায় আনারকলি চাষের পরিধি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।’


