জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি কোর্সকে যুগোপযোগী করার তাগিদ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি কোর্সকে যুগোপযোগী করার তাগিদ
Advertisement
Advertisement

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড আইসিটি কোর্সকে আরও যুগোপযোগী, শিক্ষার্থীবান্ধব ও কর্মমুখী করতে মানসম্মত রিসোর্স ম্যাটেরিয়াল এবং অনলাইন কনটেন্ট উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর এ এস এম আমানুল্লাহ।

শুক্রবার সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে ইউনিসেফ বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের অ্যাপ্লাইড আইসিটি কোর্সের ‘রিসোর্স ম্যাটেরিয়ালস ফাইনালাইজেশন’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বর্তমানে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, গবেষণা, উদ্ভাবনসহ জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত। তাই শিক্ষার্থীদের এমন শিক্ষা দিতে হবে, যা শ্রেণিকক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা সম্ভব।
তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৈচিত্র্য, শিক্ষাগত ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে রিসোর্স ম্যাটেরিয়াল তৈরি করতে হবে। এর ভাষা হতে হবে সহজ, সাবলীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব, যাতে সব ধরনের শিক্ষার্থী সহজে বিষয়বস্তু বুঝতে পারে।

আমানুল্লাহ আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষার বৃহত্তম অংশকে ধারণ করে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত এর অধিভুক্ত কলেজ রয়েছে। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে একই মানের সময়োপযোগী শিক্ষাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শিক্ষাসামগ্রী এমন হতে হবে, যা শিক্ষার্থীদের বিষয় বুঝতে, প্রয়োগ করতে এবং নতুন কিছু উদ্ভাবনে উৎসাহিত করে।

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা ম্যানেজমেন্ট, সাইবার সিকিউরিটি ও ডিজিটাল কমিউনিকেশনের মতো ক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। তাই অ্যাপ্লাইড আইসিটি কোর্সে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

আরও পড়ুন

বিশেষ করে ডিজিটাল মার্কেটিং ও গিগ ইকোনমির মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল দক্ষতাকে কর্মক্ষেত্র, ফ্রিল্যান্সিং ও আয়মুখী কাজের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। শিক্ষার্থীরা যেন প্রযুক্তির শুধু ব্যবহারকারী না হয়ে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশীয় ও বৈশ্বিক কর্মবাজারে সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং ডিজিটাল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে—এমন লক্ষ্যেই কনটেন্ট তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতার প্রশংসা করে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম, রিসোর্স ম্যাটেরিয়াল ও ডিজিটাল কনটেন্ট নিয়মিত হালনাগাদ করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। এতে দেশের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের সমান সুযোগ পাবে।

কর্মশালার প্রথম দিনে রিসোর্স বুকের বিভিন্ন অধ্যায় ও টপিকের বিষয়বস্তুর যথার্থতা, শিক্ষার্থীদের উপযোগিতা, প্যাডাগজিক্যাল পদ্ধতি, ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং অনলাইন কনটেন্টের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বিষয়বস্তুকে আরও সহজবোধ্য ও প্রায়োগিক করতে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সংশোধন ও পরিমার্জনের সুপারিশ করেন। পরবর্তী দুই দিনে এসব মতামতের ভিত্তিতে রিসোর্স বুক ও অনলাইন কনটেন্টের চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার কথা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান, প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, ইউনিসেফের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় বিশেষজ্ঞ, ডোমেইন এক্সপার্ট, প্যাডাগজি এক্সপার্ট, ফ্যাসিলিটেটর ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সালমা পারভীন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad