ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে বাহরাইনে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি এস এম তারেক মহসিনের জানাজা ও দাফন শেষ হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রামের হালিশহর থানার নয়াবাজার এলাকায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা শেষে স্থানীয় একটি মসজিদের পাশে কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দীর্ঘ এক মাসের অপেক্ষা ও নানা কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়। শনিবার সকালে মরদেহ চট্টগ্রামে নেওয়া হয়।
গত ২ মার্চ বাহরাইনের রাজধানী মানামার কাছাকাছি একটি শিপইয়ার্ডে কর্মরত অবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ তার মাথায় পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তারেক। ওই ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি প্রবাসী আহত হন।
নিহত তারেক চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইদুল হকের ছেলে। নদীভাঙনে পৈত্রিক ভিটেমাটি বিলীন হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ হালিশহরের বৌবাজার এলাকায় বসবাস করছিলেন তারা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি।
তারেকের পরিবারে স্ত্রী ও এক কন্যা রয়েছেন। তার মেয়ে বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষে পড়েন। জানাজায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইদ আল নোমানসহ রাজনৈতিক নেতা এবং এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
জানাজার আগে দেওয়া বক্তব্যে সংসদ সদস্য সাইদ আল নোমান বলেন, তারেকের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এছাড়া সন্দ্বীপের সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশার পক্ষ থেকে প্রতিনিধি উপস্থিত হয়ে শোকবার্তা প্রদান করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র বাহরাইন সীমান্তে প্রতিরোধ করা হলে তার খণ্ডিত অংশ গিয়ে পড়ে তারেকের ওপর। এই দুর্ঘটনাই তার মৃত্যুর কারণ হয়। এক মাসের প্রতীক্ষা শেষে অবশেষে নিজ দেশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা।


