বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে মানসম্পন্ন শিশু পরিচর্যা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ ও প্রতিনিধিরা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিস (বিলস) এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান লাইটক্যাসেল পার্টনার্সের উদ্যোগে, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রে শিশু পরিচর্যার বর্তমান অবস্থা, এর মান উন্নয়নে গবেষণালব্ধ তথ্য, জাতীয় ন্যূনতম মানদণ্ড বিষয়ে নির্দেশনা, কমিউনিটি পর্যায়ের পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধনী অধ্যাদেশ-২০২৫) অনুযায়ী সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন, মালিকপক্ষের সংগঠন ও নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে মানসম্পন্ন শিশু পরিচর্যাকে নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বাংলাদেশে এর বাস্তবায়নে কাঠামোগত ও প্রয়োগগত নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
তারা বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কনভেনশন-১৫৬ মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে শিশু পরিচর্যা সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিলেও দেশে প্রণীত শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আইন ২০২১ বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত নজরদারি ও পরিদর্শনের ঘাটতি রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবীর, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের অতিরিক্ত মহাসচিব মো সাইদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিস নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ যুগ্ম সমন্বয়কারী আহসান হাবীব বুলবুল, বিলস উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য নইমুল আহসান জুয়েল, নির্বাহী পরিষদ সম্পাদক সাকিল আখতার চৌধুরী এবং আইএলও প্রকল্প কর্মকর্তা নিরান রামজুঠান।
বক্তারা বলেন, শিশু পরিচর্যাকে শ্রম অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি না দিলে নারীর শ্রম অধিকার ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং এ ক্ষেত্রে শ্রম পরিদর্শনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দিবাযত্ন কেন্দ্র এবং পরিচর্যাকারীদের দক্ষতা ও সক্ষমতা উন্নয়ন না হলে কর্মক্ষেত্রে ও শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে।
এ ক্ষেত্রে সেবার মান উন্নয়ন করে শিশু পরিচর্যা সেবাকে ধীরে ধীরে সর্বজনীন করার ওপর জোর দেন বক্তারা। তারা আরও বলেন, শ্রম পরিদর্শন অধিদপ্তরে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর স্বল্পতা এ ক্ষেত্রে একটি বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে গবেষণার ভিত্তিতে কয়েকটি নীতিগত সুপারিশ তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে ছিল শিশু পরিচর্যাকে সার্বজনীন শ্রম অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, কক্ষভিত্তিক ব্যবস্থা থেকে সেবাভিত্তিক শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থায় রূপান্তর করা, জাতীয় বিধিমালা ও মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনা, শ্রম অধিকার ও সামাজিক নীতিতে শিশু পরিচর্যাকে অন্তর্ভুক্ত করা, সুশাসন ও পরিদর্শন জোরদার করা এবং শিশু পরিচর্যা কর্মীদের পেশাদারীকরণ নিশ্চিত করা।


