পূর্বাচলের নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠা প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আলাদা তিনটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ ও বাদীর জেরা শেষ হয়েছে।
রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলমের আদালতে এ মামলার বাদী দুদক কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিনকে জেরা করা হয়।
এ ছাড়া এদিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আফনান জান্নাত কেয়া সাক্ষ্য দেন। আগামী ১৮ নভেম্বর আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার জেরার দিন ঠিক করেছেন। দুদক প্রসিকিউটর খান মো. মাইনুল হাসান লিপন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে, গত ৩১ জুলাই এই তিন মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। এরপর থেকে শেখ রেহানা ও তার তিন ছেলে-মেয়ের বিরুদ্ধে করা আলাদা তিনটি মামলায় এখন পর্যন্ত ৩৭ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বরাদ্দ নেওয়া প্লটের বিষয়ে ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরস্পর সহযোগিতায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ছয়টি মামলায় গত ১০ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।
দুদকের মামলায় আরও রয়েছেন–শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব ববি, মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য মেজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন।
প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে আলাদা ছয়টি মামলা করে দুদক। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, তার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেককে আসামি করা হয়। সবগুলো মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকার সময়ে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তারা বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নং রাস্তার ৬টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।


