কার্গো সংকটে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আমদানি করা গ্যাসের বড় অংশ আসছে সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে।
বুধবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) এলএনজি বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।
টাইমস অব বাংলাদেশকে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘কার্গো সংকটের কারণে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।’
সরবরাহ বন্ধ হওয়ার আগে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যেত। এখন সামিট টার্মিনাল থেকে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ৫৭০ এমএমসিএফডি।
মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হয়। এক্সিলারেট বন্ধ থাকায় এখন সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ৫৭০ এমএমসিএফডি। এটি স্বাভাবিক সম্মিলিত সরবরাহের ৫৭ শতাংশ।
গত ২১ জুলাই এক্সিলারেটের এফএসআরইউতে আগুন লাগে। এরপর প্রায় দুই সপ্তাহ টার্মিনালটি থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ ছিল। মেরামতের পর সরবরাহ শুরু হলেও কার্গো-সংক্রান্ত জটিলতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
সর্বশেষ সংকটের কারণ প্রতিকূল আবহাওয়ায় এলএনজি কার্গো খালাসে বিলম্ব। এতে শিল্পকারখানা, বাসাবাড়ি ও সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ কমেছে।
আরপিজিসিএল কর্মকর্তারা জানান, এক্সিলারেটের জন্য নতুন এলএনজি কার্গো ২৩ আগস্ট আসার কথা। সরবরাহ দ্রুত চালু করতে জাহাজটি নির্ধারিত সময়ের আগে আনার চেষ্টা চলছে।
কর্মকর্তারা জানান, সর্বশেষ সরবরাহ বন্ধের কারণ নতুন কোনো কারিগরি সমস্যা নয়। টার্মিনালের দুটি বয়লারই এখন সচল। আগের আগুনের পর একটি বয়লার চালু ছিল। এখন দ্বিতীয় বয়লারটিও চালু হয়েছে। নতুন কার্গো এলেই টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে পারবে।
এদিকে সৌদি আরামকোর সরবরাহ করা একটি এলএনজি কার্গো খালাস না করেই ফেরত পাঠানো হচ্ছে। কারিগরি সামঞ্জস্য ও জাহাজ থেকে জাহাজে (এসটিএস) স্থানান্তরের শর্ত নিয়ে জটিলতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পেট্রোবাংলার এলএনজি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক দীন মোহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরপিজিসিএল জানায়, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এলএনজি জাহাজ আলহামরা মহেশখালী ছেড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে যাচ্ছে। জাহাজটি প্রায় ৬১ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ১১ আগস্ট মধ্যরাতে কক্সবাজারের মহেশখালীর কাছে পৌঁছেছিল। কার্গোটি সামিটের টার্মিনালে খালাসের কথা ছিল।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, প্রথমে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কার্গো খালাস করা যায়নি। পরে দুই জাহাজের কারিগরি সামঞ্জস্য ও এসটিএস স্থানান্তরের শর্ত পূরণ জরুরি হয়ে পড়ে। নির্ধারিত সময়ে শর্ত পূরণ না হওয়ায় কার্গোটি খালাস করা হয়নি।
পরে সামিট টার্মিনালের জন্য বিকল্প এলএনজি কার্গোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফেরত পাঠানো কার্গোর পরিবর্তে অন্য জাহাজে আরেকটি চালান পাঠাবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।
কর্মকর্তারা জানান, আরেকটি বিকল্প জাহাজ শিগগিরই আসবে। নির্ধারিত অন্য চালান থেকেও এলএনজি সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।
মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মোট পুনর্গ্যাসীকরণ সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ১০০ এমএমসিএফডি। এক্সিলারেটের সক্ষমতা ৬০০ এমএমসিএফডি। সামিটের সক্ষমতা ৫০০ এমএমসিএফডি।
পেট্রোবাংলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান আরপিজিসিএল দেশে এলএনজি আমদানি ও পুনর্গ্যাসীকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে।


