ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আবাসিক হোটেলে আগুনে প্রাণ হারিয়েছেন ঢাকার সাভারের কসমেটিক ব্যবসায়ী ও ফুটবলপ্রেমী আহম্মেদ বাবু (৩৮)। এই দুর্ঘটনায় নিহত নয়জনের মধ্যে যে পাঁচজন বাংলাদেশি রয়েছেন, বাবু তাদের একজন।
ঘটনায় প্রাণ হারানো অপর চারজন একই পরিবারের। তারা হলেন দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তিন বছরের শিশুপুত্র স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪)।
নিহত আহমেদ বাবু আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি মহল্লার প্রয়াত আদম আলীর চার ছেলের মধ্যে সবার ছোট। তিনি আমিনবাজার মফিদ-ই-আম উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শেষ করে ব্যবসায় যুক্ত হন এবং বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন শাহীন সুপার মার্কেটে ‘কিউট কসমেটিকস’ নামে তার একটি দোকান রয়েছে।
দুই সন্তানের জনক বাবু ফুটবল খুব ভালোবাসতেন। ১২ বছর বয়সী মেয়ে রোজা মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে এবং পাঁচ বছরের ছোট ছেলে সোয়াদকে আগামী বছর স্কুলে ভর্তি করানোর স্বপ্ন ছিল তার।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার সকালে ভ্রমণের উদ্দেশে কলকাতায় যান তিনি। আগামী শুক্রবার তার দেশে ফেরার কথা ছিল। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা সাবেরা বেগম ও স্ত্রী বুবলী আকতারের কাছে দোয়া চেয়ে বলেছিলেন, মাত্র পাঁচ দিনের জন্য যাচ্ছেন, দ্রুতই ফিরে আসবেন। মা ও ছেলেকে জড়িয়ে ধরে দোয়া করে বের হন বাবু।
মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকেও পরিবারের সবার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন বাবু। বড় ভাই মোহাম্মদ আলী, মনির হোসেন, স্ত্রী, সন্তান ও মায়ের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেন এবং কার জন্য কী কেনাকাটা করেছেন তা জানান। কিন্তু এর মাত্র দুই ঘণ্টা পর, রাত ২টার দিকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বিস্ফোরণ থেকে হোটেলে আগুন লেগে যায়। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কাছে হওয়ায় ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে আহমেদ বাবুসহ নয়জনের প্রাণহানি ঘটে।
বুধবার বেলা ৩টার দিকে দুর্ঘটনায় বাবুর মৃত্যুর খবর পৌঁছায় সাভারে। এ খবর আসার পর থেকে তার বাড়িতে নেমে আসে শোক। বিকালে বেগুনবাড়ির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বৃদ্ধা মা সাবেরা বেগম স্বজনদের জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদছেন আর আকুতি জানাচ্ছেন, অন্তত ছেলের মরদেহটি যেন দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। অন্য কক্ষে বাকরুদ্ধ স্ত্রী বুবলী বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন, আর অবুঝ ছোট ছেলে সোয়াদ না বুঝে ঘরের চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে।


