ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশব্যাপী যাত্রীদের যাতায়াত নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে একগুচ্ছ কঠোর ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।
সোমবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন।
এবারের ঈদযাত্রায় যানজট নিরসন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আগামী ২০ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিআরটিএ সদর কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখান থেকে সারা দেশের মহাসড়ক পরিস্থিতি মনিটরিং এবং জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে বলেও জানান তিনি।
সড়কপথে শৃঙ্খলা রক্ষায় ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে বিআরটিএ’র নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি আরও ৫০ জন অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন।
রাজধানীর সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালীসহ দেশের প্রধান বাস টার্মিনালগুলোতে বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম কাজ করবে। বিশেষত টোল প্লাজা এবং যানজটপ্রবণ স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঈদের সাত দিন আগে থেকে পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাদের সহায়তা করবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও রোভার স্কাউট সদস্যরা।
যাত্রীদের চাপ সামলাতে বিআরটিসি বিশেষ বাস সার্ভিস পরিচালনা করবে এবং প্রয়োজনে স্ট্যান্ডবাই বাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা মহানগরীতে যাতায়াত সহজ করতে মেট্রোরেলের চলাচলের মধ্যবর্তী সময় বা হেডওয়ে সমন্বয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কের ব্লাইন্ড স্পটগুলোতে মিরর স্থাপন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পেশাদার চালকদের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে ১০টি বিশেষ মেডিকেল টিম ডোপ টেস্ট পরিচালনা করবে।
সভায় সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম স্পষ্টভাবে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ঈদযাত্রায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং দায়িত্বে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
কোনো দুর্ঘটনা বা অব্যবস্থাপনা ঘটলে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও তদারককারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সভায় রেলপথ ও সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


