এপ্রিলে সড়কে প্রাণ গেছে ৪০৪ জনের

এপ্রিলে সড়কে প্রাণ গেছে ৪০৪ জনের
Advertisement
Advertisement

দেশে গত এপ্রিলে ৪৬৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০৪ জন নিহত এবং ৭০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫৩ জন নারী ও ৪৮ জন শিশু। নিহতদের প্রায় ২৮ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার।

একই সময়ে ৭টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। আর ৩৪টি রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ২৬ জনের।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলে ১৪২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১১৩ জন নিহত হয়েছেন। যা মোট দুর্ঘটনার ৩০ দশমিক ৬৬ শতাংশ। পথচারী নিহত হয়েছেন ১০২ জন, যা মোট মৃত্যুর ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। এ ছাড়া চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৪৬ জন।

যানবাহনভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, বাসযাত্রী ৩০ জন, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-লরি-ট্রলি-ট্রাক্টর আরোহী ৫১ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের ২৪ জন এবং থ্রি-হুইলার যাত্রী ৬১ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনে ১০ জন এবং রিকশা ও বাইসাইকেলে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন

দুর্ঘটনার মধ্যে ১৬৮টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৯৩টি আঞ্চলিক সড়কে, ৪৫টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৫৭টি শহরের সড়কে ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, যার সংখ্যা ১৯৪টি। মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে ৯৭টি এবং পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১০৬টি।

সময় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে সকালে, ২৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। রাতে ঘটেছে ১৯ শতাংশ দুর্ঘটনা।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১০৯টি দুর্ঘটনায় ১০২ জন নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৯৪ জনের। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে, যেখানে ১২টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১২ জন। রাজধানী ঢাকায় ৩৬টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪৯ জন শিক্ষার্থী, ২২ জন ব্যবসায়ী, ১৯ জন রাজনৈতিক কর্মী, ১৭ জন বিক্রয় প্রতিনিধি, ১৪ জন এনজিও কর্মী এবং ১১ জন ব্যাংক ও বিমা কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে।

সংগঠনটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করা, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বাড়ানো এবং মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণসহ ১২ দফা সুপারিশ করেছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad