যুক্তরাষ্ট্রে বসতি গড়ার প্রায় ছয় বছর পর যুক্তরাজ্যে ফিরতে যাচ্ছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। চলতি মাসের শেষ দিকে লন্ডনের বাইরে রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, এমন একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে উঠবেন তারা। তাদের সন্তান প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেট আগামী সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাজ্যের একটি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করবে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
হ্যারি ও মেগানের যুক্তরাজ্যে ফেরার পরিকল্পনার কথা গত রোববার রাজা তৃতীয় চার্লসকে জানানো হয়েছে। তবে দেশে ফিরলেও তারা রাজপরিবারের কর্মরত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন না। তাদের সরকারি মর্যাদাতেও কোনো পরিবর্তন আসছে না। তারা সাধারণ নাগরিক হিসেবেই যুক্তরাজ্যে বসবাস করবেন।
রাজা চার্লসের পাশাপাশি প্রিন্স উইলিয়াম ও ক্যাথরিনকেও এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। জানা গেছে, রাজা আগে এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। তবে ছেলে, পুত্রবধূ এবং নাতি-নাতনিদের আরও কাছে পাওয়ার সুযোগকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানিয়েছেন।
গত জুলাইয়ে হাইগ্রোভে রাজা চার্লসের সঙ্গে দেখা করেছিলেন হ্যারি ও মেগান। প্রাসাদ ওই সাক্ষাৎকে ‘ব্যক্তিগত পারিবারিক আয়োজন’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল। চার বছরেরও বেশি সময় পর সেটিই ছিল রাজার সঙ্গে তার নাতি-নাতনিদের সরাসরি দেখা হওয়ার প্রথম সুযোগ।
২০২২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পর এবারই প্রথম হ্যারি ও মেগান একসঙ্গে যুক্তরাজ্যে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
২০২০ সালের শুরুতে রাজপরিবারের কর্মরত সদস্যের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান হ্যারি ও মেগান। ওই বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় বসতি গড়েন তারা। এরপর থেকেই রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই সম্পর্কে কিছুটা বরফ গলতে শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। জুলাইয়ে রাজার সঙ্গে হ্যারির সাক্ষাৎকে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হয়।
যুক্তরাজ্যে ফেরার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা দীর্ঘদিন ধরেই হ্যারি-মেগানের অন্যতম বড় উদ্বেগ। রাজপরিবারের কর্মরত সদস্যের দায়িত্ব ছাড়ার পর তাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা কমিয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে করা আইনি চ্যালেঞ্জেও গত বছর হেরে যান হ্যারি।
হ্যারি এর আগে জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণেই স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে আসতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।
জুলাইয়ের সফরে আহত ও অসুস্থ সাবেক সেনাসদস্যদের জন্য তার প্রতিষ্ঠিত ইনভিক্টাস গেমস নিয়েও প্রচার চালান হ্যারি। আগামী বছর বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হবে এই ক্রীড়া আয়োজন।
ইনভিক্টাস গেমস ফাউন্ডেশনের প্রধান কর্মসূচি ও কৌশল কর্মকর্তা ডেভিড ওয়াইজম্যান হ্যারির যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার খবরকে স্বাগত জানিয়েছেন। নতুন পরিবেশে হ্যারি-মেগানের সন্তানরাও সহজেই মানিয়ে নিতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
তবে যুক্তরাজ্যে সাম্প্রতিক সফরেও আইনি ঝামেলা থেকে মুক্তি পাননি হ্যারি। ডেইলি মেইল ও মেইল অন সানডের প্রকাশক অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপারসের বিরুদ্ধে করা গোপনীয়তা মামলায় হাই কোর্টে হেরে যান তিনি।
রাজপরিবার থেকে দূরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরুর প্রায় ছয় বছর পর সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফেরার সিদ্ধান্ত হ্যারি ও মেগানের জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।


