ভোলার লালমোহন উপজেলার মেঘনা নদীতে ঘাটে অবস্থানরত কর্ণফুলী-১২ নামে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চে ধাক্কা লেগে মৎস্য বিভাগের একটি স্পিডবোট ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মো. ফখরুল নামে এক পুলিশ সদস্য নদীতে নিখোঁজ রয়েছেন।
এছাড়া স্পিডবোটে থাকা পুলিশ সদস্যসহ আরও ৫ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ ফখরুল লালমোহনের মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন, তার বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানায়।
এছাড়া আহতরা হলেন, লালমোহন উপজেলা মৎস্য বিভাগের অফিস সহকারী আব্বাছ উদ্দিন, ক্ষেত্র সহকারী মনোয়ার হোসেন, সাইফুল ইসলাম সোহাগ ও আরও ৩ পুলিশ কনস্টেবল।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে সরকার ঘোষিত ভোলার মেঘনা তেতুলিয়া নদীতে মাছ ধরায় ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা চলছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মঙ্গলসিকদার ঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করছিল পুলিশ সদস্যরা। এসময় হটাৎ অভিযানকারী দলের স্পিডবোট বিকল হয়ে নদীতে ভাসতে থাকে।
অন্যদিকে এসময় ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে ঢাকা থেকে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা এমভি কর্ণফুলী-১২ লঞ্চটি মঙ্গল সিকদার ঘাটে যাত্রী নামাচ্ছিল। একপর্যায়ে স্পিডবোটটি স্রোতে ভেসে লঞ্চের তলায় ঢুকে যেতে গেলে বোটে থাকা পুলিশ সদস্য ও মৎস্য বিভাগের লোকজন বোটের একপাশে এসে বোটটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় লঞ্চের প্রফেলারের পানির ঘুর্ণিতে স্পিডবোট উল্টে ডুবে যায়। পরবর্তীতে বোটে থাকা পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের অন্যান্য লোকজন সাঁতরে তীরে উঠলেও নিখোঁজ হন ফখরুল।
এদিন রাত ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমোহন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.অলিউল ইসলাম বলেন, ‘এটি দুর্ঘটনা। নিখোঁজ পুলিশ কনস্টেবল ফখরুলের সন্ধানে নদীতে উদ্ধার অভিযান চলছে। আমরা মূলত এখন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি। এ ঘটনায় পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত নদীতে নিখোঁজ পুলিশ কনস্টেবল ফখরুলের কোনো খোঁজ মেলেনি।


