গাজায় ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত অন্তত ৮৩

গাজায় ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত অন্তত ৮৩
নিহত সাংবাদিক মরিয়ম আবু দাগার জানাজা পড়াচ্ছেন বাবা রিয়াদ দাগা। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের চালানো সবচেয়ে ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৮৩ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে কেবল গাজা সিটিতেই প্রাণ হারান ৬১ জন। এ নিয়ে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রাণহানি ছাড়াল ৬৫ হাজার।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার মধ্য ও উত্তর গাজায় সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজা সিটির ধ্বংসাবশেষে টিকে থাকা কয়েকটি হাসপাতাল ও কাছাকছি শরণার্থী শিবিরে স্থল অভিযানের পাশপাশি মিসাইল ও বিমান হামলা চালায় আইডিএফ।

এতে গাজার আল-শিফা হাসপাতাল প্রাঙ্গনে ১৫ জন নিহত হন। অন্য হামলায় আল-আহলি হাসপাতালের পাশে প্রাণ হারান আরও চার জন।

হামাস এ আক্রমণকে ‘পরিপূর্ণ যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে। সশস্ত্র সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘জাতিসংঘের নতুন প্রতিবেদনে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনকে “গণহত্যা” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার একদিন পরই আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহতম হামলা “গণহত্যার” অপরাধই প্রমাণ করে।’

যুক্তরাজ্যের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মন্ত্রী হ্যামিশ ফ্যালকনার বলেন, ‘শিশু রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য পরিচিত আল-রান্তিসি হাসপাতালে রাতভর গোলাবর্ষণের ঘটনায় “আতঙ্কিত” অনুভব করছি।’

আরও পড়ুন

সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘ইনকিউবেটরে থাকা শিশু আর ডায়ালাইসিসের অপেক্ষায় থাকা শিশুদের কখনোই হামলার শিকার হওয়া উচিত নয়।’

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই শিশু হাসপাতালটিতে তিন দফায় হামলা হয়েছে। এরই মধ্যে ৪০ জনের বেশি রোগীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে আরও ৪০ রোগী ও চিকিৎসক-কর্মী হামলার সময় হাসপাতালের ভেতরে আটকা পড়েন।

গণহত্যা গাজায়
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের স্বজনদের আহাজারি। ছবি: এপি/ইউএনবি

চলতি সপ্তাহের শুরুতে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের ওপর স্বাধীন তদন্ত পরিচালনা করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। এতে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতিবেদনে গাজার আল বসমা আইভিএফ সেন্টার ধ্বংসের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। ওই হাসপাতালে অন্তত চার হাজার ভ্রূণ এবং এক হাজার শুক্রাণু ও ডিম্বাণু নমুনা সংগৃহীত ছিল। জাতিসংঘ এটিকে ‘গাজায় ফিলিস্তিনিদের জন্ম রোধের উদ্দেশ্যে চালানো পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা ১৯৪৮ সালের কনভেনশনে গণহত্যার সংজ্ঞায় পড়ে।

এদিকে, গাজা শহর দখলের চেষ্টায় ফের উত্তর গাজায় সব ধরনের ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে নেতানিয়াহুর সরকার। এতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বাস্তুচ্যুত লাখো ফিলিস্তিনি।

ইসরায়েল গাজার দক্ষিণে আল-মাওয়াসিকে ‘নিরাপদ এলাকা’ ঘোষণা করে সেখানেও নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে। শহরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ওই এলাকায় ‘পানি, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক চাহিদা নেই’। সেই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান শরণার্থী ঢলে নানা ধরনের রোগ ছড়িয়ে পড়ছে বলেও সতর্ক করেন তারা।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক কার্যালয় (ওসিএইচএ) সতর্ক বার্তায় জানিয়েছে, উত্তর গাজায় দুর্ভিক্ষ ক্রমেই ভয়ংকর হচ্ছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর জিকিম ক্রসিং বন্ধ হওয়ার পর থেকে উত্তরাঞ্চলে সাহায্য প্রবেশের সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad