রমজানের মাঝে সকলের মনে প্রশান্তি কাজ করলেও বাফুফে ভবনের দোতলায় জাতীয় দল কমিটির সভাকে ঘিরে আজ ছিল চাপা উত্তেজনা। সবার মনেই একটিই প্রশ্ন, কোচ হাভিয়ের কাবরেরার মেয়াদ কি বাড়ছে, নাকি সিঙ্গাপুর ম্যাচই হতে যাচ্ছে লাল-সবুজের ডাগআউটে তাঁর শেষ অধ্যায়? তবে আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় দল কমিটির দীর্ঘ সভা শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু যা জানালেন, তাতে কাবরেরার ভবিষ্যৎ নিয়ে কুয়াশা আরও ঘনীভূত হলো। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, স্প্যানিশ এই কোচের ব্যাপারে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে যাচ্ছে না ফেডারেশন।
সভার মূল আলোচ্যসূচি ছিল আসন্ন সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামের বিপক্ষে ম্যাচ দুটির প্রস্তুতি। অবাক করার মতো বিষয় হলো, জাতীয় দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় কোচ হাভিয়ের কাবরেরা সশরীরে কিংবা ভিডিও কনফারেন্স, কোনো মাধ্যমেই যুক্ত ছিলেন না। অথচ আগামী ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই বাফুফের সাথে তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। কোচকে ছাড়াই সভার পর বাবু বলেন, ‘সিঙ্গাপুরের ম্যাচ আর ভিয়েতনামের ম্যাচটা নিয়েই আজকে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। কাবরেরা নিয়ে কোনো কথা হয় নাই। আমরা কী করব না করব, তা সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগে সিদ্ধান্ত নিইনি এবং নেবও না। দল ঢাকায় ফেরার পরই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’
এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ‘সি’ গ্রুপে ৫ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে আছে বাংলাদেশ। মূল পর্বের দৌড় থেকে বাংলাদেশ আগেই ছিটকে যাওয়ায় সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটির গাণিতিক গুরুত্ব তেমন নেই। তবে কোচ কাবরেরার জন্য এটি নিজের যোগ্যতা প্রমাণের শেষ সুযোগ, যেখানে তাঁর মূল লক্ষ্য র্যাঙ্কিংয়ে কিছুটা উন্নতি করা। লক্ষ্যটা বড় হলেও এবারের বাছাইপর্বে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে আক্ষেপ অনেক। ভারত, সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের মতো দলগুলোর গ্রুপে পড়েও কেন বাংলাদেশ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ হারাল, কিংবা প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তির পরও কেন প্রত্যাশিত সাফল্য এল না, তা নিয়ে আজকের সভায় কোনো আলোচনা হয়নি। আমিরুল ইসলাম বাবু স্বীকার করলেন, ‘আসলে আমরা কেন পারলাম না, তা নিয়ে আজ কোনো আলোচনা হয়নি। আমাদের লক্ষ্য এখন র্যাঙ্কিংয়ে ভালো অবস্থানে যাওয়া।’
মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে অস্বস্তি থাকলেও প্রস্তুতির প্রক্রিয়া থেমে নেই। ১৬ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় দলের ক্যাম্প। ঈদুল ফিতরের ছুটির আমেজের মধ্যেই ফুটবলাররা অনুশীলনে ফিরবেন। তবে অনুশীলনের ভেন্যু নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন পরিস্থিতি। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম থাকতেও কেন বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় প্র্যাকটিস, এমন প্রশ্নে বাবু মাঠের বেহাল দশার দিকেই আঙুল তুললেন। তিনি জানান, জাতীয় স্টেডিয়ামের পিচের বিভিন্ন জায়গায় গর্ত দেখা দেওয়ায় ফুটবলারদের ইনজুরির ঝুঁকি থাকে। তবে কোচ কাবরেরা যদি মাঠ পরিদর্শন করে সন্তুষ্ট হন, তবেই ভেন্যু বদলের ভাবনা আসতে পারে।
বাণিজ্যিক জৌলুস ও তারকাখ্যাতির দিক থেকে বাংলাদেশ ফুটবল কিছুটা গতি পেলেও মাঠের পারফরম্যান্স যেন এখনো সাফের গণ্ডিতেই আটকে আছে। নারী দল যেখানে বিশ্বকাপের সমীকরণ নিয়ে লড়ছে, সেখানে তারকাখচিত পুরুষ দল নিয়ে কাবরেরা এশিয়ান কাপের স্বপ্ন দেখাতেও ব্যর্থ হয়েছেন। চুক্তি শেষে বাফুফে নতুন কোনো উচ্চমানের কোচের দিকে ঝুঁকবে নাকি কাবরেরাতেই আস্থা রাখবে, তা দেখার জন্য এখন সিঙ্গাপুর ম্যাচের পর দল ঢাকা ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।


