ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনায় সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
এ ছাড়া পৃথক এক ঘটনায় সনাতন ধর্মাবলম্বী এক ব্যক্তিকে হত্যার পর মরদেহে আগুনের ঘটনায়ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের অফিসিয়াল পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানানো হয়।
এতে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সব ধরনের সহিংসতার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলা হয়, সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এসব ঘটনায় জড়িতদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতে শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকায় দলবদ্ধভাবে সহিংস কর্মকাণ্ড ঘটানো হয়। খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। একই সময় নিউ এইজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবীরকে ডেইলি স্টারের সামনে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়।
এসব ঘটনার দ্রুত, পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহে সনাতন সম্প্রদায়ের পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে একদল লোক পিটিয়ে হত্যা করাকে ‘ভয়াবহ’ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে মানবাধিকার সংস্থাটি। পরে তার মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগ তুলে এভাবে একজন মানুষকে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, এসব সহিংস ঘটনায় মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যা আইনের শাসন ও মানবাধিকারের জন্য মারাত্মক হুমকি।
সহিংসতায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে অবিলম্বে ন্যায়বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে জোর দাবী জানিয়েছে তারা।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে দৃঢ় ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।


