ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতে তখন মাত্র কয়েক সেকেন্ড বাকি। গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হতে যাচ্ছে ঘানা-পানামা ম্যাচ, গ্যালারি থেকে ডাগআউট–এমনটাই ধরে নিয়েছিলেন সবাই। তবে শেষ মুহূর্তে গোল পেয়ে গেল আফ্রিকার দেশটি। পানামাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের স্বপ্ন উজ্জ্বল করল তারা।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচে কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকে শুরু করে নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত দুই দলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চললেও, শেষ পর্যন্ত ৯৪তম মিনিটে ক্যালেব ইরেনকির জয়সূচক গোলে নাটকীয় এক জয় তুলে নেয় ঘানা।
ম্যাচের শুরু থেকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে পানামা। ম্যাচের লাগাম নিজেদের পায়ে রেখে বল দখলে নিয়ে বারবার আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে তারা। প্রথমার্ধে প্রায় ৬৪ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে গোলের জন্য তিনটি শট নেয় পানামার ফরোয়ার্ডরা, যার মধ্যে একটি ছিল একদম লক্ষ্যে।
বিপরীতে, প্রথমার্ধে ৩৬ শতাংশ বল দখলে রাখা ঘানা গোলের জন্য কোনো শটই নিতে পারেনি। মূলত কাউন্টার অ্যাটাক বা পাল্টা আক্রমণের সুযোগের অপেক্ষায় থাকা ঘানা প্রথমার্ধে বলার মতো কোনো আক্রমণই শানাতে পারেনি। এই অর্ধে প্রতিপক্ষের একের পর এক আক্রমণ সামলানো আর মাঝমাঠে বল দখলের লড়াইয়ের পেছনেই কেটেছে তাদের সময়। প্রথমার্ধে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও ঘানার জমাট ডিফেন্সের দেয়ালে এসে আটকে যেতে হয় পানামাকে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে এক বড় ধাক্কা খায় ঘানা। দলের প্রধান গোলরক্ষক আতি-জিগি লরেন্স চোটে পড়ায় তাকে মাঠ ছাড়তে হয় এবং বদলি খেলোয়াড় নামাতে বাধ্য হয় দলটি। লরেন্সের জায়গায় গোলপোস্ট সামলানোর কঠিন দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নামেন আরেক গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারে।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচটি যখন নিশ্চিত গোলশূন্য ড্রয়ের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই পাল্টে যায় পুরো ম্যাচের দৃশ্যপট।
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে পানামার রক্ষণভাগের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে দুর্দান্ত এক গোল করেন ক্যালেব ইরেনকি। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগমুহূর্তের এই গোলটিই ম্যাচ থেকে পানামাকে ছিটকে দেয়।
গত এপ্রিলে মাত্রই ঘানার কোচের দায়িত্ব নেওয়া কার্লোস কুইরোজ এই অবিশ্বাস্য জয়ের আনন্দে শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠের ভেতর দৌড়ে ছুটে যান। গ্যালারিতে ঘানার সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। মাঠের খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ডাগআউটের কোচিং স্টাফ–সবাই মেতে ওঠেন বিশ্বমঞ্চের এই অন্তিম নাটকের মহোৎসবে।


