দুই দশক পর বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সুরকার এই রায় দেন। আসামী পক্ষের আইনজীবি বোরহান উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সকালে আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর, জি কে গউছসহ আসামিরা আদালতে হাজির হন। ২০০৪ সালের ২১ জুন দিরাইয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর জনসভায় এ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে।
আসামীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘মামলায় মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছিলো। এর মধ্যে তিনজনের আগেই অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। বাকি ১০ জনের মধ্যে নয়জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র আসামি হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমেদ আরিফ ওরফে নিমুর বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়। পরে আদালত ৩০২ ধারায় তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন।’
মামলার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। পরে গত ৭ এপ্রিল ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। ওই সময় তারা আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলায় স্থানীয় যুবলীগের এক কর্মী নিহত হন এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও ওই হামলায় আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান।
ঘটনার পর দিরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর মামলায় লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরী, জি কে গউছসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
আদালত সূত্র আরও জানা যায়, মামলার বিচারকালে ১২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে চলা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।


