বড় সাফল্য হচ্ছে জনসম্পৃক্ততা: মাহদী আমিন

বড় সাফল্য হচ্ছে জনসম্পৃক্ততা: মাহদী আমিন
ছবি: পিএমও
Advertisement
Advertisement

সরকারের ১৮০ দিনের বড় সাফল্য হচ্ছে, ‘ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা এবং নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন’ বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

সোমবার দুপুরে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘গত ছয় মাসের অজস্র জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে যেখানেই গিয়েছেন ঠিক সেখানেই জনগণের ঢল নেমে এসেছে। জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাসকে ধারণ করে বর্তমানে আমাদের যে সরকার, সেটি বারবার দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। সরকারের এই ছয় মাসের সবচাইতে আলাদা একটি বিষয় হচ্ছে, নির্বাচনী ইশতেহারকে ধারণ করে সেখানকার প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য অবিরত কাজ করে চলেছে। সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সরকারের প্রতিটি কার্যক্রমে প্রতিফলিত হয়েছে।’

সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা

মাহদী আমিন বলেন, ‘গত ছয় মাসে বাকস্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে একটিবারের জন্যও কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি। যেখানে আমরা দেখেছি সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা, যা অনেক সময় সীমা লঙ্ঘন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি কীভাবে উসকানি দেওয়া হয়েছে, অশোভন আচরণ করা হয়েছে; কিন্তু তারপরও সরকারের সর্বোচ্চ ধৈর্য এবং সহনশীলতার মাধ্যমে ঠিক যেভাবে প্রয়াত জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেটিকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে জনগণের সরকার।’

মাহদী আমিন আরও বলেন, গত ছয় মাসে দেখা গেছে অত্যন্ত প্রাণবন্ত এবং স্বতঃস্ফূর্ত জাতীয় সংসদ; যেখানে সংসদ সদস্যরা একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করেছেন, সমালোচনা করেছেন এবং যৌক্তিকভাবে বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেছেন। সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধিত যে অধ্যাদেশ, সেটিকে সংসদে আইনে রূপান্তরের মাধ্যমে সন্ত্রাসী একটি রাজনৈতিক সংগঠন যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল, তাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

মানুষের মর্যাদা ও সম্মান প্রতিষ্ঠা

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, ‘বর্তমান সরকার গত ছয় মাসে কী কাজ করেছে আমি বলি; সেটি হচ্ছে এই রাষ্ট্র ও সমাজে মানুষের মর্যাদা ও সম্মান প্রতিষ্ঠা করা—যেগুলো আমরা আগে দেখিনি, যা আগে ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন মিরপুরে যখন শিশু রামিসা হত্যা হলো, সেই শিশু রামিসার ঘরে প্রধানমন্ত্রী নিজে গিয়েছেন। এর মানে হচ্ছে, মজলুমের ঘরে যখন সরকারপ্রধান যান, তখন বুঝতে হবে যে আসলে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করি, যেখানে জনগণের কাছে রাষ্ট্র ও সরকার দায়বদ্ধ।’

সরকার যে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, সেই দায়বদ্ধতা থেকেই এই রাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দ ও সরকারের উপদেষ্টাগণ এখানে আছেন। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আপনাদের যদি কোনো কিছু জানার থাকে, নেতৃবৃন্দকে জানালে তারা বলবেন, যোগ করেন তিনি।

গণমুখী ও বহুমাত্রিক দশ কর্মযজ্ঞ

এগুলো হচ্ছে—অভূতপূর্ব জনসমর্থন, সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাফল্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন, আর্থিক খাতে সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, অবকাঠামো, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বতন্ত্র ও ভিন্নমাত্রিক নেতৃত্ব।

সালেহ শিবলীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আউয়াল। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খান, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপ্ট রাইটার মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন এবং সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার ও আশরোফা ইমদাদ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad