দেশে কোনো জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য থাকবে না উল্লেখ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর দাবি ও সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দ্যেলা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভূমির মালিকানা সমস্যা সমাধানে ভূমি কমিশন গঠন, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন আয়োজন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শব্দের পরিবর্তে গোত্রভিত্তিক পরিচয় প্রদান, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার স্থাপন, রিজার্ভ বনাঞ্চল বা বিভিন্ন প্রকল্পের নামে উচ্ছেদ বন্ধ এবং ঋণ সুবিধা প্রদানের দাবি জানান।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে সমাধানযোগ্য সমস্যাগুলো আগে সমাধানের চেষ্টা করছে। বিগত সরকারের আমলের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতি বছর দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার না হলে দেশের অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হতো। সংকট কাটিয়ে উঠতে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু হয়েছিল জিয়াউর রহমানের হাত ধরে ৩১ শয্যার মাধ্যমে। পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বর্তমান সরকার এখন এসব হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ ছাড়া, ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ কিডনি ডায়ালাইসিস ও হার্টের রিংয়ের মতো জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর আরোপিত কর হ্রাস করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতি কর্মী সঞ্জীব দ্রং এবং ১৭টি জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


