ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদির ওপর গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিন্দা জানিয়েছে।
শুক্রবার দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই হামলা শুধু একজন প্রার্থীর ওপর নয়, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার হওয়া গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ওপরও সরাসরি আঘাত।
এনসিপি ওসমান হাদির দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে এবং দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া চেয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই হামলা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নির্বাচনী পরিবেশের ভঙ্গুরতার দিকে ইঙ্গিত দেয়। হামলার আগে প্রকাশ্যে হুমকির কথা জানানোর পরও তাকে নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
এতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালিয়েছে এবং সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলেছে। তাদের অবশিষ্ট সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয় এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
সরকার যদি অবিলম্বে এই নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তবে তারা আবারও গণতান্ত্রিক উত্তরণে বাধা দেবে এবং দেশকে সহিংস অরাজকতার দিকে ঠেলে দেবে।
নাগরিক সমাজ, তরুণ প্রজন্ম, গণতান্ত্রিক শক্তি এবং দেশের সাধারণ জনগণকে সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করতে এনসিপি অঙ্গীকারবদ্ধ বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এনসিপি অবিলম্বে হামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, হুমকির উৎস শনাক্তকরণ, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান এবং সব প্রার্থী ও নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে।
এদিন জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার পর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি।
পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, গুলি তার বাম কানের নিচে লেগেছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত। তার পুরো নাম শরিফ ওসমান হাদি হলেও সামাজিকমাধ্যমে তিনি ওসমান হাদি নামে পরিচিত।


