জুলাই যোদ্ধাদের ওপর বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণ হচ্ছে বলে মন্তব্য করে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আক্রমণ করেন অসুবিধা নাই। করতে করতে কে কোথায় যেয়ে পালায় আর ডুবে আল্লাহতাআলা ভালো জানেন।’
বৃহস্পতিবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
হবিগঞ্জ ও সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির পদযাত্রায় হামলা হয়েছে। অভিযোগ বিএনপি সমর্থক ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দিকে।
সিলেটে হামলার দিনে এই আলোচনায় জামায়াত আমির বলেন, ‘মেহেরবানী করে যুবসমাজকে ভয় দেখাবেন না।’
তার দাবি, তাদের একটাই ‘দোষ’ যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেন। ‘কিন্তু আমাদের যা বলার জাতির অধিকারের জন্য, আমরা বলেই যাব। আমাদের মুখ কেউ বন্ধ করতে পারবে না।’
ভয়ভীতি বা কোনো চাপের কাছে জামায়াত নতি স্বীকার করবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আপনাদেরকেও (শহীদ ও আহত পরিবার) দেখানো হচ্ছে। আল্লাহর কসম, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না।’
কেন ভয় করবেন, সে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতৃবৃন্দ ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেছেন, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা যাবে না। আমরা সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। আমরা মনে করি, প্রতি মুহূর্তে ফাঁসির মঞ্চের ওপরই আছি।’
কোনো একটি রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে অন্য কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানো জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল না বলেও মন্তব্য করেন শফিকুর।
তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের মানুষ একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। বরং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তার, অযোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ এবং দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।’
জামায়াত নেতার অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ, ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান, করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিদের উপেক্ষা করে দলীয় বিবেচনায় দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং দুর্নীতির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
জুলাই আন্দোলনে হত্যার বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবেই বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। বলেন, ‘কোনো কোনো বিচার ৫০ বছর পরে হয়েছে এই দেশে। কোনোটা হয়েছে ২১ বছর পরে। ইনশাআল্লাহ যতদিন যত মাস যত বছর লাগুক, এর বিচারও হবে ইনশাআল্লাহ।’
বিএনপির প্রতি গণভোট নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগও এনেছেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘গণভোট আপনারা চাইলেন, আমরা চাইলাম। এখন আপনারা মানেন না, আমরা কিন্তু আমাদের জায়গায় আছি, আমরা এখান থেকে সরতে পারব না, জনগণের সঙ্গে আমরা বেইমানি করতে পারব না।’
‘সুস্পষ্টভাবে আপনারা জাতির কাছে দেওয়া কথা লঙ্ঘন করেছেন. আপনারা জাতির বিশ্বাস রক্ষা করেন নাই, আপনারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন’, বলেন তিনি।


