বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থানকালে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না বলে ভারতীয় সংসদের একটি স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার।
শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরতে পারেন বলে যে মন্তব্য করেছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের করা অনুরোধ বর্তমানে প্রচলিত আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে।
কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশী থারুরের সভাপতিত্বে গঠিত পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তাদের পর্যবেক্ষণে বলেছে, শেখ হাসিনাকে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে ভারতের মানবিক ঐতিহ্য ও সংকটাপন্ন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার দীর্ঘদিনের নীতির আলোকে।
তবে কমিটি জোর দিয়ে বলেছে, ভারত তার ভূখণ্ডকে অন্য কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করতে দেয় না—এ নীতিতে দেশটি অটল।
‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে কমিটি সরকারকে এ পরিস্থিতি যথাযথ সংবেদনশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করে মানবিক ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান বজায় রাখার সুপারিশ করেছে।
শেখ হাসিনার বিষয় ছাড়াও কমিটি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দ্রুত স্বাভাবিক ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছে।
কমিটির মতে, ভিসা ইস্যুর সংখ্যা কমে যাওয়ায় জনমনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও এর বিরূপ প্রভাব দেখা দিচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ২৮ জুন ভারত আবারও বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটক ভিসা চালু করে।
এ ছাড়া, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে সংসদীয় কমিটি ঢাকা-দিল্লির মধ্যে দ্রুত নবায়ন আলোচনা শুরু করার সুপারিশ করেছে।
কমিটির মতে, চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে হালনাগাদ জলপ্রবাহের তথ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের সঙ্গেও পরামর্শ করা প্রয়োজন।
পাশাপাশি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনার সুপারিশ করেছে কমিটি।


