জাতীয় গ্রিড থেকে টানা পাঁচ থেকে সাত দিন গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় নেত্রকোনায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না, সিএনজিচালিত পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে তিতাস গ্যাসের আওতাধীন জেলার প্রায় ৫ হাজার ৬০০ গ্রাহক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকলেও গত পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে জেলায় গ্যাসের চাপ কার্যত শূন্যে নেমে এসেছে।
তিতাস গ্যাস অফিস সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনায় প্রায় ৫ হাজার ৬০০ আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকের পাশাপাশি একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন, ২৪টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ২৯টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ রয়েছে। গ্যাস না থাকায় বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, জেলা সদর হাসপাতাল, পুলিশ লাইন্স, জেলা কারাগারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে।
জেলার একমাত্র এ আর খান পাঠান সিএনজি ফিলিং স্টেশনের স্টেশন ইঞ্জিনিয়ার বোরহান কবির বলেন, প্রায় এক মাস ধরে কম চাপের সমস্যা থাকলেও গত সাত থেকে আট দিন ধরে ইনলেট প্রেসার পুরোপুরি শূন্য। ফলে কোনো যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এতে স্টেশনের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা, অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য যানবাহন সংকটে পড়েছে।
তিনি বলেন, তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি দূর হলেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তবে নেত্রকোনা গ্যাস সরবরাহ লাইনের শেষ প্রান্তে হওয়ায় এখানে সংকট আরও তীব্র।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অ্যাম্বুলেন্সচালকেরা জানান, গ্যাসের জন্য অনেককে ময়মনসিংহে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত গ্যাস না পেয়ে অনেকে এলপিজি ব্যবহার করছেন। এতে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রতি ট্রিপে ১০ থেকে ২০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া নিতে হচ্ছে। আয় কমে যাওয়ায় অনেক চালক গাড়ির কিস্তিও পরিশোধ করতে পারছেন না।
যাত্রীরাও জানান, গ্যাস সংকটের কারণে নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
নেত্রকোনা জেলা তিতাস গ্যাসের উপব্যবস্থাপক মো. গোলাম মর্তুজা বলেন, এটি কোনো স্থানীয় সমস্যা নয়; জাতীয় পর্যায়ের সাময়িক কারিগরি সংকট। সমস্যা সমাধানে দেশীয় প্রকৌশলীদের পাশাপাশি বিদেশি বিশেষজ্ঞরাও কাজ করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং এ সময় পর্যন্ত গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
দীর্ঘস্থায়ী এ সংকটের দ্রুত সমাধান এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক, সিএনজিচালিত পরিবহনচালক ও গ্যাসনির্ভর ব্যবসায়ীরা।


