মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় সাংগঠনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে চার বছর আগে ভবনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও নতুন ভবন নির্মাণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
শিবালয়ের মুক্তিযোদ্ধারা জানিয়েছেন, কার্যালয়টির টিনের চালে মরিচা ধরে ছিদ্র হয়ে গেছে এবং দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টিতে পানি ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। বর্তমানে শিবালয় উপজেলার মোট ২০৪ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ৯৮ জন জীবিত আছেন। এ ভোগান্তি নিরসনে এবং কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে দ্রুত একই স্থানে আধুনিক মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ জালালউদ্দিন জানান, চার বছর আগে ব্যক্তিগত অর্থায়নে ভবনে খুঁটি বসালেও অবকাঠামো এখন অত্যন্ত নাজুক। সিলিংয়ের কাঠ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে এবং ঝড়-বাতাসে ভবনটি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে জমিজমাসংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে নতুন ভবন নির্মাণে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মানিকগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আ. মান্নান। তিনি জানান, জমিসংক্রান্ত সমস্যা মেটানোর পর নতুন ভবনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপাতত বিকল্প স্থান ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম চালানোর জন্য উপজেলা আহ্বায়ককে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জমিসংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি নিশ্চিত করে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা রানী কর্মকার জানান, স্থান নির্ধারণ ও আইনি জটিলতা নিরসন হলে নতুন ভবন নির্মাণ সম্ভব। জাতীয় দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধারা কথা বললেও পরবর্তীতে আর যোগাযোগ করেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবীর জানান, এ বিষয়ে কেউ তার কাছে লিখিত আবেদন বা সরাসরি যোগাযোগ করেননি। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে তিনি আন্তরিক এবং বিষয়টির সুরাহার জন্য তাদের কার্যালয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।


