প্রায় ১৫ বছর আগে রাজীবুল হোসেন নির্মাণ করেছিলেন ‘ঊনাদিত্য’। সিনেমাটির হার্ডডিস্ক চুরি হয়ে গিয়েছিল। সম্প্রতি তা খুঁজে পেয়েছেন। নতুন করে এডিট করেছেন এবং ট্রেইলার মুক্তি দিয়েছেন। পরিচালক জানিয়েছেন, সিনেমাটি এআই প্রযুক্তির সহায়তায় রিমাস্টার করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা যেটিতে এআই প্রযুক্তির সহায়তায় রিমাস্টার করা হয়েছে।
‘ঊনাদিত্য’-এর ইংরেজি নাম Less Than Sun God. সিনেমাটি ভারতের আগ্রায় অনুষ্ঠিতব্য ‘৭ম গ্লোবাল তাজ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’-এ নির্বাচিত হয়েছে। উৎসবটি ১৩ থেকে ১৫ নভেম্বর আগ্রার জেপি অডিটোরিয়াম, খান্দারি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে।
রাজিবুল হোসেন বলেন, বালুঘড়ি ও ঊনাদিত্য বাংলাদেশের ডিজিটাল মাধ্যমে নির্মিত প্রথমদিকের সিনেমা। সম্প্রতি এগুলো নতুন করে রি-মাস্টারিং করা হয়েছে। দর্শক এখন ঊনাদিত্য সিনেমাটি ফাইভকে রেজল্যুশনে ৫.১ ডিজিটাল ডলবি সাউন্ড সিস্টেমে উপভোগ করতে পারবেন।
পরিচালক জানান, উৎসবে তিনি আর অভিনেত্রী রুনা খান আমন্ত্রণ পেলেও ভিসা জটিলতার কারণে অংশ নিতে পারছেন না।
সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন রুনা খান, সমু চৌধুরী, মাহদী মইনুল, রাকীবুল হোসেন, জয় রাজ, নওশের, রানা। এর কাহিনি ও চিত্রনাট্য করেছেন হাবিব জাকারিয়া। চিত্রগ্রহণে ছিলেন রাজীবুল হোসেন। সম্পাদনা করেছেন সামীর আহমেদ। সংগীত পরিচালনা করেছেন যাযাবর (আফজাল হোসেন তানিম, সোহেল রানা ও রেজাউল রাসেল)। পোশাক পরিকল্পনায় সাকি ফারজানা। শিল্প নির্দেশনায় মনোজ কুমার প্রমাণিক।
‘ঊনাদিত্য’ এক অন্তর্দ্বন্দ্ব, ভালোবাসা ও ওঁরাও জাতিগত পরিচয়ের চলচ্চিত্র — যেখানে অজানার পথে যাত্রা হয়ে ওঠে আত্ম-আবিষ্কারের গল্প। এতে দেখা যায়, তরুণ আলোকচিত্রী খালেদ সৈকত এক অজানা গ্রামে যাত্রা করে, যেখানে ওরাও সম্প্রদায়ের ধর্মান্তরিত তরুণ আরুণ খালকো ও স্কুল শিক্ষিকা আরতির জীবনে জড়িয়ে পড়ে সে। খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত আরুণ সমাজচ্যুত হলেও নিজের জাতিকে উন্নত করার স্বপ্ন দেখে, আর আরতি তার স্বপ্নে নিজের অস্তিত্ব খোঁজে।
খালিদ সৈকত যখন ফাগুয়া উৎসব, প্রেম ও বিশ্বাসের টানাপোড়েন প্রত্যক্ষ করে, তখন সে বুঝতে পারে — এই যাত্রা শুধু একটি ওঁরাও গ্রাম নয়, বরং মানুষের পরিচয়, বিশ্বাস ও স্বাধীনতার গভীরে প্রবেশের এক অনুসন্ধান।


