যুদ্ধকালীন যৌন সহিংসতার অভিযোগে ইসরায়েল ও রাশিয়াকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। এদিকে, এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার প্রকাশিত ‘সংঘাত-সম্পর্কিত যৌন সহিংসতা’ বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে এই নতুন সংযোজনগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর আগে গত আগস্টে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার না দিলেও ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর যৌন নির্যাতনের ‘বিশ্বাসযোগ্য তথ্য’ পাওয়ার কথা জানিয়েছিল জাতিসংঘ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ইসরায়েলের জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন দাবি করেন, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে জাতিসংঘ প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা আসেননি।
তবে প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী জাতিসংঘের কর্মকর্তা প্রমিলা প্যাটেন জানান, প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের বিষয়ে ইসরায়েল সরকারের কাছ থেকে তিনি কোনো সদুত্তর পাননি। তিনি লিখিতভাবে অগ্রগতি জানতে চাইলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি স্বীকার করে প্যাটেন বলেন, পরিদর্শনের পরিধি, নিরাপত্তা প্রবেশাধিকার নিয়ে দ্বিমত এবং গাজা যুদ্ধের কারণে শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত হয়ে যায়।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালে জাতিসংঘ গাজা উপত্যকা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের ১৪ জন পুরুষ, সাতজন নারী, নয়জন বালক এবং একজন বালিকার ওপর নির্যাতনের সত্যতা যাচাই করেছে।
নির্যাতনের তালিকায় ধর্ষণ, গণধর্ষণ, যৌনাঙ্গে আঘাত ও গুলি করা, জোরপূর্বক বিবস্ত্র করা এবং ধর্ষণের হুমকির মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিবরণ রয়েছে।
এসব অপরাধের শিকারদের মধ্যে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরাও ছিলেন এবং কিছু ঘটনার ভিডিও বা ছবি ধারণ করা হয়েছিল। নির্যাতনের তীব্রতায় পাঁচজন পুরুষ ভুক্তভোগী মারাত্মক রক্তক্ষরণ ও শারীরিক যন্ত্রণায় ভোগেন।
একই প্রতিবেদনে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধেও ভয়াবহ নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়। ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হাতে ৩১০টি যৌন সহিংসতার ঘটনা যাচাই করেছে জাতিসংঘ, যার শিকার হয়েছেন ২৮০ জন পুরুষ, ২৬ জন নারী এবং চারজন বালিকা।
রাশিয়াও এসব অভিযোগ এবং জাতিসংঘের তদন্তকারীদের প্রবেশাধিকার অস্বীকার করেছে। সারা বিশ্বে গত বছর এই ধরনের সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে এবং প্রায় ১০ হাজার কেস নথিবদ্ধ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ফলে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না এলেও, এটি আন্তর্জাতিক মহলে সংশ্লিষ্ট দেশের সুনামের চরম ক্ষতি করে এবং পুনরাবৃত্তিকারীদের জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনে নিষিদ্ধ করা হয়।
প্রমিলা প্যাটেন এই প্রবণতাকে চরম উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছেন, প্রকৃত চিত্রটি আরও ভয়াবহ এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই অপরাধীরা এভাবে আশকারা পাচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা


