জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (বিসিটিআই) যৌথ আয়োজনে “চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপন পরিবেশনা ও বিপণনে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার এর মাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য বিস্তার রোধ কৌশল” শীর্ষক কর্মশালা বৃহস্পতিবার জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে বিসিটিআই পরিচালিত চারটি কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিসিটিআই-এর প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী সৃজনশীল শিল্প, গণমাধ্যম ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তবে এর ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি অপতথ্য, বিভ্রান্তি ও নৈতিক ঝুঁকির বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তিনি বলেন, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাণে এআই যেন ইতিবাচক উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার সহায়ক শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাবিব নাজমুস ছাকিব। তিনি বলেন, এআই ও কম্পিউটার গ্রাফিক্স প্রযুক্তি চলচ্চিত্র নির্মাণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ডি-এজিং, ভার্চুয়াল প্রোডাকশন, ভয়েস ক্লোনিং ও ভিজ্যুয়াল এফেক্টস বিশ্বব্যাপী সৃজনশীল শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করছে। তবে লেখকত্ব, নৈতিকতা ও সেন্সরশিপ নিয়েও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, ডিপফেক, ভুয়া ভিডিও, ভয়েস ক্লোনিং এবং এআইচালিত বটের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ছে। একইসঙ্গে ফ্যাক্ট-চেকিং টুল, অ্যালগরিদমিক শনাক্তকরণ ও ওয়ার্নিং লেবেলের মাধ্যমে অপতথ্য প্রতিরোধে এআই-এর ইতিবাচক ব্যবহারের দিকও তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রওনক জাহান, চলচ্চিত্র গবেষক রফিকুজ্জামানসহ বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন। তারা এআই প্রযুক্তির নৈতিক, দায়িত্বশীল ও মানবিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


