চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে নিখোঁজের ২ দিন পর ধানক্ষেত থেকে এক শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত শিশুর নাম শরিফ খাতুন (৬)। সে গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের যোগীবাড়ী গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে। শরিফা বাঙ্গাবাড়ি নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল।
রবিবার বিকালে গোমস্তাপুর উপজেলার আলিনগর ইউনিয়নের মকরমপুর গ্রামের পাশ্ববর্তী এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে শরিফার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
এঘটনায় শিশুটির দুলাভাই অন্তরকে আটক করা হয়েছে। সে একই উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের লালাপুর গ্রামের ইব্রাহিম আলীর ছেলে। অন্তর পেশায় একজন নির্মাণ শ্রমিক।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার দাদা আব্দুল করিমের সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ একই উপজেলার আলিনগর ইউনিয়নের মকরমপুর গ্রামে ফুফুর বাড়ি বেড়াতে যায় শরিফা। সেখানেই দুপুরের পর থেকে নিখোঁজ হয় সে। খোঁজাখুজি করে সন্ধান না পাওয়ায় গোমস্তাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন দাদা আব্দুল করিম। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আব্দুল আওয়াল জানান, শরিফার বড় বোনের স্বামী (দুলাভাই) অন্তরও ফুফু শাশুড়ির বাড়িতে পারিবারিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র করে বেড়াতে আসে। পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে অন্তর। পরে সে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে।
গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ নুরে আলম জানান, অন্তরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার বিকালে মকরমপুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, শুক্রবার বিকালের দিকে ধানক্ষেতে নিয়ে অন্তর প্রথমে শরিফার মাথায় আঘাত করে। পরে তার পরনের জামা গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
‘অন্তর কিছুদিন আগে তার শ্বশুরের কাছে ১ লাখ টাকা চেয়েছিল। সেটা না পাওয়ার ক্ষোভ ছিল। এছাড়া শ্যালিকাকে হত্যা করলে শ্বশুরের সম্পত্তির ভাগ বেশি পাওয়ার আশায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমাদের জানিয়েছে’ বলেন তিনি।
এবিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


