দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী পাঁচদিন ঢাকাসহ সব বিভাগেই টানা বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এই সময়ে দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অব্যাহত বৃষ্টিপাতের দরুণ দেশের সাত বিভাগে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
একই সঙ্গে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ার কারণে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবাহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু দেশের উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় ও অন্যত্র তা মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে দেশের দুটি জেলায় নদীর পানি এখন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে বন্যা তথ্য কেন্দ্র।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের কুশিয়ারা নদী ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়াও আগামী দুই দিনে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পান বেড়ে কিছু জায়গায় বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে, যা অন্তত পাঁচটি জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, তিস্তায় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা আছে। তবে যমুনায় পানি বাড়লেও বিপদসীমা অতিক্রম করবে না। তারপরও আগামী দুই থেকে তিন দিন সব নদনদীর পানি বাড়বে।
এর আগে, এ মাসের শুরুতেই গাইবান্ধার চরাঞ্চলে একবার বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সে সময় ব্রক্ষ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি এবং সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চলে পানি উঠেছিল। বন্যার পানির স্রোতে বেশ কিছু চরে বাড়িঘর তলিয়ে গিয়েছিল। এখন আবারও ভারতের দিকে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে একই পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, আগামী পাঁচ দিন দেশের কিছু অঞ্চলের নদ নদীর পানি বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় কিছু জায়গায় তা বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জামালপুর ও বগুড়ার কিছু এলাকায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সতর্ক সীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীর কাছাকাছি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।


