‘বিশ্বের সবচেয়ে জটিল কিছু সংঘাত সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা’ করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ‘ব্যক্তিগত উদ্যোগকে’ স্বাগতও জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইউক্রেনের পক্ষ নিয়ে ‘স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে’ দাঁড়ানোরও আহ্বান জানান।
বিবিসি’র খবরে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে যুক্তরাজ্যে স্বাগত জানাতে উইন্ডসর ক্যাসলে ১৬০ জন বিশেষ অতিথিকে নিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ নৈশভোজের আয়োজন করেন রাজা চার্লস। রাজা, রানি ও রাজপরিবারের শীর্ষ সদস্যরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উইন্ডসরে স্বাগত জানান।
এসময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্রিটেনের ‘বিশেষ সম্পর্কের’ ওপর জোর দেন। চার্লস বলেন, ‘বিশেষ শব্দটিও উভয় দেশের গুরুত্ব বোঝাতে যথেষ্ট নয়।’
তিনি দুই দেশের গভীর সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক, বাণিজ্যিক ও সামরিক যোগসূত্র বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
‘আমাদের দুই দেশের জনগণ যে মূল্যবোধ লালন করে, তার জন্য একসঙ্গে লড়েছে এবং প্রাণ দিয়েছে’, বলেন রাজা চার্লস।
ভোজসভায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রিন্স উইলিয়ামকে ভবিষ্যতের ‘অসাধারণ সফল নেতা’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং প্রিন্সেস ক্যাথরিনকে ‘অত্যন্ত সুন্দরী এবং প্রিন্স উইলিয়ামের দারুন সহযোগী’ অভিহিত করেন।

এবারের আয়োজনে যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র ব্যবসায়িক সংযোগও প্রাধান্য পায়। ভোজসভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে অ্যাপলের টিম কুক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যানসহ প্রযুক্তি খাতের আলোচিত ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। নৈশভোজের ওই আয়জনেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্তরাজ্যে ১৫০ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা আসে, যার মধ্যে ২২ বিলিয়ন পাউন্ডই দিচ্ছে মাইক্রোসফট। ভোজসভায় উপস্থিত ছিলেন ফক্স নিউজের কর্ণধার রুপার্ট মারডকও।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা নেওয়ার পর এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঐতিহাসিক দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় সফর। বৃহস্পতিবারে ট্রাম্প দম্পতি রানি ক্যামিলা ও ওয়েলসের প্রিন্সেস ক্যাথরিনের সঙ্গে নানা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে চেকার্সে রাজনৈতিক বৈঠক করবেন।


