প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের নির্দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, আইইউডি (গর্ভনিরোধক যন্ত্র) ও হরমোনাল ইমপ্লান্ট ধ্বংস করা হয় বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি)।
সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিম্নআয়ের দেশের নারীদের জন্য স্বাস্থ্য সহায়তার অংশ হিসেবে ওই সামগ্রীগুলো কেনা হয়েছিল। তবে গত কয়েকমাস ধরে সেগুলো বেলজিয়ামের একটি গুদামে পড়ে ছিল।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী কোনো ‘জীবনরক্ষাকারী’ ওষুধ নয়। তাই যুক্তরাষ্ট্র আর এসব পণ্য কিনে দরিদ্র দেশগুলোকে সরবরাহ করবে না।
এ সংক্রান্ত নথি থেকে জানা গেছে, গত জুনে পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জেরেমি লিউইন সরাসরি ওইসব সামগ্রী ধ্বংসের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেসময় বেলজিয়াম সরকার ও ফ্ল্যান্ডার্স কর্তৃপক্ষ বহুবার কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে সামগ্রীগুলো সংরক্ষণ ও বিক্রির চেষ্টা করে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের অভ্যন্তরীণ নথি ও ইমেইল থেকে আরও জানা গেছে, গেটস ফাউন্ডেশনসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থাও এসব সামগ্রী কিনে নিতে বা অনুদান হিসেবে গ্রহণ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বাড়তি খরচ হতো না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের জগণের করের অর্থে কেনা সামগ্রী বিক্রির মাধ্যমে আংশিকভাবে কিছু ডলার ফেরত পাওয়া যেত। তবুও ট্রাম্প প্রশাসন অতিরিক্ত এক লাখ ৬৭ হাজার ডলার ব্যয় করে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীগুলো ধ্বংস করে।
ইউএসএআইডির এক মুখপাত্রের দাবি, এসব জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী আসলে গর্ভধারণ ঠেকায় না বরং ‘গর্ভপাত ঘটায়’। যা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আইনত দণ্ডনীয়। আইনগতভাবে এসব সামগ্রী কেনার অনুমতি ইউএসএআইডি’র নেই।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তারা বলছেন, বেলজিয়ামে যেসব সামগ্রী মজুদ ছিল, সেগুলোর তালিকা অনুযায়ী, গর্ভপাতের জন্য এসব সামগ্রী কোনোভাবেই দায়ী নয়। এগুলো কেবল নারী দেহে ডিম্বস্ফোটন ও নিষেক প্রতিরোধ করে।
ইউএসএআইডি’র কর্মকর্তারা জন্মনিয়ন্ত্রক ওইসব সামগ্রী জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) কাছেও বিক্রির পরামর্শ দিয়েছিলেন। তারা জানান, ১০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সামগ্রীগুলো অন্তত ৭ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হতো। সাতটি আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্যগুলো কিনে নিতে আগ্রহ দেখালেও ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেন, ‘যোগ্য ক্রেতা নেই’ এবং জন্মনিয়ন্ত্রক বিক্রি প্রশাসনের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়েছে গর্ভপাতের অধিকার নিয়ে কাজ করা এমএসআই রিপ্রোডাকটিভ চয়েসেস।
সংস্থাটির কর্মকর্তা বেথ শ্লাখটার বলেন, ‘প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলারের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ধ্বংস করা নির্মমতা ছাড়া কিছুই নয়। এতে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর বহু মানুষ পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার মৌলিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।’


