দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টা পর অবশেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় জাকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় ভোট গণনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এ ভোট নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।
এদিকে, সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের জরুরি বৈঠক শেষে উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এখনই আমরা নির্বাচন কমিশনের আদেশ অনুযায়ী ভোট গণনা শুরু করব।’
সংশ্লিষ্ট সকলের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের এই কষ্টের কথা ইতিহাস হয়ে থাকবে, কারণ ৩৩ বছর পর জাকসু নির্বাচন হচ্ছে।’
ব্যালট পেপার কীভাবে গণনা হবে, সে প্রসঙ্গে উপচার্য বলেন, ‘ব্যালট পেপার আমরা হাতেই গণনা করে যাব। আশা করি, খুব শিগগিরই নির্বাচন কমিশন গণনা শেষ করে আপনাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন।’
এদিকে, জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনায় লোকবল বাড়ানো হয়েছে বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনিরুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘ভোট গণনা বন্ধ করা হয়েছে, এটি সঠিক নয়। সহকর্মী মারা যাওয়ায় কিছুক্ষণ বন্ধ ছিল।’
এদিন সন্ধ্যায় সংবাদিকদের তিনি আরো জানান, ভোট গণনায় লোকবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। গতি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। শুক্রবার রাতের মধ্যেই গণনা শেষ করে ফলাফল প্রকাশের আশা করছেন তারা।
ভোট গণনায় দীর্ঘ সময়ের কারণ হিসেবে প্রক্টর জাকির আহমেদ জানান, ওএমআর দিয়ে গণনা বাতিল করায় ম্যানুয়ালি (সনাতন পদ্ধতিতে) কাজ চলছে। নির্ভুল ফলাফলের জন্য সময় বেশি লাগছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব একেএম রাশিদুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকের লোকবল দিয়ে বিকাল নাগাদ হলভিত্তিক ভোট গণনার হিসাব শেষ করার কথা ছিল। রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে সম্পূর্ণ গণনা শেষ করে বেসরকারিভাবে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা ছিল। তবে হঠাৎ জরুরি বৈঠকের কারণে গণনা বন্ধ রাখা হয়েছে।’
এর আগে শুক্রবার বিকাল ৫টার পর হঠাৎ করে হলগুলোতে ভোট গণনা স্থগিত করা হয়। ডাকা হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের জরুরি বৈঠক। পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের প্রতি ধৈর্য ধারণের আহ্বানও জানানো হয় এ সময়।
এবার জাকসুর নির্বাচনে মোট ভোটার ১১ হাজার ৭৪৩ জন। কমিশনের হিসাবে প্রায় ৬৭ থেকে ৬৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে ভোট গণনা শুরু হয়েছিল। এ দিন ভোট গ্রহণ সকাল ৯টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলে।
ছাত্রদল ছাড়াও চারটি প্যানেল ও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ‘ভোট কারচুপির’ অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। তবে ছাত্রশিবির বলছে, ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে নির্বাচন ‘সুষ্ঠু হয়েছে’। তারাও ৬৭ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে বলে মনে করছে।


