চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেন থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার সন্ধ্যায় চকরিয়া বাস টার্মিনালে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
এদিন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। পরে বিভিন্ন কর্মসূচি শেষে তিনি রাত ৭টা ৫০ মিনিটে চকরিয়া বাস টার্মিনালের জনসভায় ভাষণ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে আসার পথে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ সাহেবকে জিজ্ঞেস করলাম—এই সোজা রাস্তাটা কোথায় গেছে? তিনি জানালেন, রাস্তাটি সরাসরি চট্টগ্রামে চলে গেছে। আমি তাকে বললাম, ২৫ বছর আগে এই রাস্তা যেমন দেখে গিয়েছিলাম, আজও একই রকম রয়ে গেছে। অথচ এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের এই রাস্তাটি আমরা ইনশাআল্লাহ দ্রুতই চার থেকে ছয় লেনে রূপান্তর করার কাজ হাতে নেব।’
আজকের কক্সবাজারের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকদিন পরই মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর চালু হবে। এ ছাড়া আনোয়ারা-পটিয়া-বাঁশখালী সড়কটি বড় করার প্রকল্প আমরা একনেকে পাস করেছি।’
এর আগে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা ও থানার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে পৌঁছান। তিনি মঞ্চে উঠলে হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে জনসভাটি এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে উপস্থিত জনতাকে অভিনন্দন জানান।
জনসভায় বিলম্বের কারণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনতার দীর্ঘ অপেক্ষার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। আপনারা বিকাল থেকে অপেক্ষা করছেন। আসলে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নামার পর পেকুয়াসহ প্রতিটি জায়গায় আধা মাইল পরপর মানুষ অপেক্ষা করছিল। সব মানুষের ভালোবাসা ও হাত নাড়ার জবাব দিতে দিতেই এখানে আসতে কিছুটা দেরি হয়ে গেছে।’
লবণ চাষীদের জন্য সুখবর
উপকূলীয় অঞ্চলের চাষীদের কষ্টের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই এলাকার বহু মানুষ লবণ চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ঈদের আগে আমি পত্রিকায় দেখলাম লবণ চাষীরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না। আমি তখনই কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি যেন দ্রুত এর সমাধান বের করা হয়। ইনশাআল্লাহ, আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমরা লবণের একটি ন্যায্য দাম নির্ধারণ করব, যাতে চাষীরা উপকৃত হন।’
নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে কক্সবাজারের মানুষ সবসময় ধানের শীষে ভোট দেন উল্লেখ করে তিনি স্থানীয় জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
‘এটি জনগণের পক্ষের বাজেট’
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাজেটে আমরা সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য—চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ ও মসলার ওপর থেকে সব ধরনের ট্যাক্স (কর) উঠিয়ে নিয়েছি, যাতে জিনিসপত্রের দাম না বাড়ে। যে বাজেটে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে না, সেটি নিশ্চিতভাবেই জনগণের পক্ষের বাজেট।’
চিকিৎসা খাতের সুবিধার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কিডনি রোগের ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী এবং হৃদরোগের চিকিৎসার সরঞ্জামাদির ওপর থেকে ট্যাক্স কমানো ও বাতিল করা হয়েছে। চোখের ছানি অস্ত্রোপচারের লেন্সের ওপর থেকেও কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। আগে যেখানে চিকিৎসা করতে এক লাখ টাকা খরচ হতো, এখন সেখানে অর্ধেক খরচ হবে। এতে লাভ জনগণেরই হয়েছে।’
বাজেটের বিরোধিতা করায় বিরোধী দলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা মদের ওপর বা সিগারেটের ওপর ট্যাক্স বাড়লে প্রতিবাদ জানায়, তারা জনগণের জন্য রাজনীতি করে না। এরা নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে নানা রকম টিকিট বিক্রি করতে চেয়েছিল। এখন আর টিকিটের কথা বলে না, কারণ ওই টিকিট দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। এরা জনগণকে বিভ্রান্ত করে শুধু ভোট নিতে চেয়েছিল।’
প্রতি উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে ১০০ বেডের
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন উপজেলায় বর্তমানে যে ৫০ বেডের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে, সেগুলোকে আমরা ১০০ বেডে রূপান্তরিত করব। এর ফলে গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য আর কষ্ট করে চট্টগ্রাম বা ঢাকায় যেতে হবে না। বাজেটে আমরা এই খাতে বিশেষ অর্থ বরাদ্দ রেখেছি।’
তিনি আরও বলেন, যারা এই গণমুখী বাজেটের বিরুদ্ধে রাজপথে বিক্ষোভ করছে, তারা মূলত জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে কথা বলছে।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া জনসভায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


