আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলছে ২০১৪ সাল থেকে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ছয়টি আসরে অংশগ্রহণ করলেও জিতেছে মাত্র তিন ম্যাচ। নিজেদের প্রথম আসরে দুটি ও দশ বছর পর ২০২৪ সালে জিতেছে সর্বশেষটি। এছাড়া বলার মতো তেমন কোনো অর্জন নেই নারী ক্রিকেটারদের। তবে রোববার বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি বললেন, আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেই ইতিহাস বদলাতে চান।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১৪ জুন, এর আগে স্কটল্যান্ডে খেলবে একটি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট। দল ঘোষণা হয়ে গেছে আগেই। রোববার ও সোমবার মিলিয়ে দুই ধাপে দেশ ছাড়বেন জ্যোতিরা। এর আগে রোববার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আসেন জ্যোতি। সেখানে তার কাছে জানতে চাওয়া হয় বিশ্বকাপের পুরনো ইতিহাস বদলানোর চ্যালেঞ্জ তারা অনুভব করেন কিনা।
এবারের টিম কম্বিনেশন আগের চেয়ে ভালো উল্লেখ করে জ্যোতি বলেন, ‘আগের বছরের চেয়ে থেকে আমার কাছে এবারে দল মনে হচ্ছে বেটার কম্বিনেশনে আছে। আমরা ভাবছি আরও বেশি ম্যাচ কীভাবে জিততে পারি। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, টি-টোয়েন্টিতে এখন অনেক পাওয়ার হিটারস আছে যেটা আগে ছিল না। আগে দুই-একটা প্লেয়ারের ওপরই সব নির্ভরকরত, কিন্তু এখন নবাগত কিছু প্লেয়ার আছে যারা হচ্ছে পারফর্ম করছে।’
নাহিদা আক্তার, মারুফা আক্তারের পারফর্মাররা দীর্ঘদিন ধরেই টেনে নিচ্ছেন দলের বোলিং ইউনিট। তাদের সামর্থ্যের ওপর ভরসা রেখে জ্যোতি মনে করেন, এবারের বিশ্বকাপে আরো উন্নতি সম্ভব। ‘দলে নাহিদা আছে, মারুফা আছে এবং স্পেশালি হচ্ছে প্লেয়ারদের ভেতরে যে একটা হাঙ্গারনেসটা আছে যে না, আমরা আসলে বিশ্বকাপের ভালো খেলতে চাই এবং আমরা ম্যাচ জয় করতে চাই। সো, ওই দিক থেকে চিন্তা করলে আমার কাছে মনে হয় এবার আমরা আরও বেটার করতে পারব’, জ্যোতি বলেন।
বিশ্বকাপের এবারের আসরে বাংলাদেশসহ খেলবে ১২ দল। গ্রুপ ১-এ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। শক্তির বিচারে বাংলাদেশের সমতুল্য বলা যায় কেবল নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তানকে। বাকি তিন দল ক্রিকেটের পরাশক্তি। তবুও ভালো করার স্বপ্ন দেখছেন জ্যোতি। তার আশা, গত আসরের চেয়েও ভালো ক্রিকেট খেলে কমপক্ষে তিনটা ম্যাচ জেতা।
সর্বশেষ তিনটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হারলেও নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। দিলারা আক্তার, সোবহানা মোস্তারি, শারমিন সুপ্তা, রাবেয়া, নাহিদাদের হাত ধরে পেয়েছে বিশ্বকাপের মূলপর্বের টিকেট। সেই আত্মবিশ্বাসকে পূঁজি করে জ্যোতি বলেন, ‘দুই-একটা থেকে তিন-চারটা ম্যাচ জয় করার যে ক্রিকেটটা, ওইটার সামর্থ্য আছে আমাদের। কিছু প্লেয়ার অনেক বেশি কনসিসটেন্ট টিমের জন্য। স্পেশালি টি-২০ ফরম্যাটে আমাদের অনেক বেটার প্লেয়ার রয়েছে। তো আমরা যদি কালেক্টিভ ক্রিকেটটা খেলতে পারি, ওয়ার্ল্ড কাপের স্টেজে তাহলে আমরা একটা বেটার রেজাল্ট করব লাস্ট ওয়ার্ল্ড কাপের থেকে।’


