রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে রামিসা আক্তারকে (৮) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। পরে মামলার রায়ের জন্য এদিন ধার্য করা হয়।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
এদিন সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। বেলা ১১টা ২১ মিনিটে প্রথমে সোহেল ও পরে স্বপ্নাকে ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে বিচারক এজলাসে উঠলে আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুরু হয়, যা একটানা দুপুর পর্যন্ত চলে।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে শুনানি করেন। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত অভিযোগ, মামলার বাদী ও রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার অভিযোগসহ সাক্ষীদের জবানবন্দি পড়ে শোনান।
পিপি আদালতে বলেন, ‘মামলার প্রত্যেক সাক্ষী রামিসার গলাকাটা লাশ দেখেছেন বলে জবানবন্দি দিয়েছেন।’
ডলার নামের এক ব্যক্তির প্রসঙ্গে পিপি বলেন, ‘আসামি জবানবন্দিতে ডলারের নাম বলেনি। কারাগারে অন্য আসামিদের সঙ্গে থাকার সময় সে এই বুদ্ধি-পরামর্শ পায়। তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসামি সোহেল গতকাল স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করে মাফ চেয়েছে।’
সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নার সম্পৃক্ততা নিয়ে পিপি বলেন, ‘সে রামিসার এই অবস্থা দেখে বাইরে এসে চিৎকার করে সবাইকে জানাতে পারত। সে তা করেনি। সোহেলকে জানালা দিয়ে পালিয়ে যেতে সহায়তার পাশাপাশি পুরো ঘটনায় স্বপ্না সেখানে অবস্থান করে সহযোগিতা করেছে।’
এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ না পাওয়ার বিষয়ে পিপি জানান, পল্লবী এলাকাটি এখনো ততটা উন্নত না হওয়ায় সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। বেলা দেড়টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষের পিপি শুনানি করেন। শুনানিতে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকীও উপস্থিত ছিলেন।
বেলা ১টা ৩১ মিনিটে আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুছা কালিমুল্লাহ যুক্তিতর্ক শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘শুধু জবানবন্দির আলোকে চার্জশিট দিয়ে আসামিকে শাস্তি দেওয়া যায় না। একজন নেশাগ্রস্ত আসামি কী জবানবন্দি দিয়েছে, তা গ্রহণ করা যায় না।’
এর জবাবে পিপি দুলু বলেন, ‘ঘটনার সময় সোহেল নেশাগ্রস্ত ছিল, সেটি কোথাও প্রমাণিত হয়নি।’
এর আগে, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার ঘর থেকে বের হয়। আসামি স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ফ্ল্যাটের সামনে তার জুতা পাওয়া যায়।
ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। তারা শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ ও একটি বড় বালতির ভেতরে কাটা মাথা দেখতে পান। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা স্বপ্নাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, তার স্বামী সোহেল রানা রামিসাকে বাথরুমে আটকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যা করেছে।
এ ঘটনায় ১৯ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা করেন। পুলিশ প্রথমে স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করে। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ মে সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় ও স্বপ্নাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ট্রাইব্যুনাল ১ জুন অভিযোগ গঠন করে বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। পরে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।


