ইউনূসকে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব করা হয় ৪ আগস্ট: নাহিদ

ইউনূসকে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব করা হয় ৪ আগস্ট: নাহিদ
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম | ফাইল ছবি
Advertisement
Advertisement

গণআন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগেই ৪ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসকে নতুন সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালনের প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

জুলাই আন্দোলনের সময়ে হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় দেওয়া জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। মামলাটির ৪৭তম সাক্ষী হিসেবে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১এ সাক্ষ্য দেন তিনি।

কোটা সংস্কারকে ঘিরে শুরু হওয়া আন্দোলন গণ-আন্দোলনে রূপ নিলে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। সেদিনই ক্ষমতা ছেড়ে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলে সরকারবিহীন হয়ে পড়ে দেশ। এরপর ৮ আগস্ট শান্তিতে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে শপথ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। শপথ গ্রহণের আগে সেদিনই ফ্রান্স থেকে দেশে ফেরেন মুহাম্মদ ইউনূস।

জবানবন্দিতে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া নাহিদ ইসলাম জানান, গত বছরের ৪ আগস্ট শাহবাগে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। সেদিন ৬ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু জানা যায়, এ কর্মসূচি ব্যর্থ করতে সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। হত্যা ও গুমও করা হতে পারে। তখন কর্মসূচি এক দিন এগিয়ে ৫ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়।

‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি সফল করতে সমন্বয়কদের পক্ষ থেকে বর্তমানে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা মাহফুজ আলম অন্যান্য ছাত্রসংগঠনসহ নাগরিক সমাজের সঙ্গে লিয়াজোঁ করছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে তারা নতুন সরকার গঠনের জন্য মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনা করেন। ৪ আগস্ট তাকে নতুন সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

৫ আগস্ট ঢাকাসহ সারা দেশে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের সংবাদ পান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এসব ঘটনার জন্য শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানরা দায়ী। তারা গণহত্যা ও নির্যাতনে অংশগ্রহণ করেছেন।

বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জবানবন্দি দেন নাহিদ।

আদালতে পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। মামলায় গ্রেপ্তা  হয়ে পরে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad