সরকার নির্দিষ্ট কিছু দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি নিয়ে এখনো কোনো সমাধান হয়নি। দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী তফসিলের আগে গণভোট ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে ফ্যাসিবাদের দোষরদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
শনিবার দুপুরে ঢাকার পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত মাসিক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়ে জানানো হয়।
রেজাউল করীম বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অর্থ হলো নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গের মানসিকতা নিরপেক্ষ থাকা এবং কার্যক্রমে তার প্রতিফলন থাকা। মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের মানসিকতা গঠন হয় সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির ওপরে। তাই নির্বাচনকালীন সরকারকে সব দলের সঙ্গে সমান আচরণ করা উচিত। কিন্তু বর্তমান সরকারের কার্যক্রম এই বিষয়ে হতাশাজনক।’
রেজাউল করীম আরও বলেন, ‘লন্ডনে বিশেষ একটি দলের সঙ্গে বৈঠক করা, জাতিসংঘের বৈঠকে তিনটি দলকে নিয়ে যাওয়া, সম্প্রতি তিনটি দলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে সারা দেশে এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ ধারণা দেওয়া হচ্ছে।’
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অন্তবর্তী সরকারকে অবশ্যই দল নিরপেক্ষ আচরণ করতে হবে। দেশ নিয়ে অব্যাহত ষড়যন্ত্র চলছে। সম্প্রতি ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ড, ধর্মবিষয়ক উসকানি দেওয়ার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক আচরণ করতে হবে, বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে এখনো কোনো সমাধান হয়নি। দ্রুততার সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিশ্চিত করতে হবে। তাফসিলের আগে গণভোট দিতে হবে। গণহত্যার বিচার করতে হবে। ফ্যাসিবাদের দোষরদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব ইউনুছ আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব আহমদ আবদুল কাইয়ুম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক, প্রচার ও দাওয়াহবিষয়ক সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ, দফতর সম্পাদক লোকমান হোসেন জাফরী প্রমুখ।


