দেশ গড়তে অতীতের মতো সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়কালে মিত্রদের এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে মিত্রদের নৈশভোজে অংশগ্রহণের জন্য তিনি আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী মিত্রদের সবজি, সাদা ভাত, বুটের ডাল, মুরগির মাংস ও দই দিয়ে আপ্যায়ন করেন।
এ সময় বৈঠকে ৪১টি রাজনৈতিক দলের ১৮৪ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। তার মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম অংশগ্রহণ করেনি।
শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, এটা আমাদের ফেয়ারওয়েল ডিনার কি না? উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অবশ্যই না, এটা ওয়েলকাম ডিনার। রাষ্ট্রের কাজে অনেক ব্যস্ততার কারণে আমাদের সঙ্গে বসা হয়নি। এখন থেকে নিয়মিত বসা হবে।’

গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন-অতীতের মতোই সবাইকে দেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে। যুগপৎ আন্দোলনে শরিক কারও সঙ্গে কোনো বিভেদ তৈরি হয়নি। একই কথা বলেন বাংলাদেশ পিপলস পার্টির নেতা সৈয়দ মাহবুব হোসেন।
জানতে চাইলে শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘১৫ বছর ধরে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম, তারাই একসঙ্গে পথ চলব। গোপন বা কোনো স্বৈরাচারের সঙ্গে আমরা ঐক্য করব না। যুগপৎ আন্দোলনে যারা ছিলেন, তাদের নিয়েই আগামীতে পথ চলব।’
রাষ্ট্র সংস্কার এগিয়ে নিতে বিএনপির অঙ্গীকার
এদিকে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর মিত্র দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করতে সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর প্রথমবারের মতো নৈশভোজ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ে মিলিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’
দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরের আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের এই মিলনকে দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও রাষ্ট্র সংস্কারের নতুন অধ্যায় হিসেবে আখ্যা দেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর মিত্র দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ আন্দোলনে একসঙ্গে থাকা রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক পরিবেশে মতবিনিময় করেছেন।

ব্রিফিংয়ের শুরুতে তিনি ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের অবসান ঘটিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে। আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী আন্দোলনকারীদের অবদানও জাতি চিরদিন স্মরণ করবে।
সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, পুরোহিত ও ফাদারদের ভাতা প্রদান, খেলোয়াড়দের ভাতা চালু এবং খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে, যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকার একটি ভেঙে পড়া রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক কাঠামোর দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে সেগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
তিনি জানান, জাতীয় ঐক্য ধরে রাখা, রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে সমন্বয় জোরদারে প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও মতবিনিময় করবেন।
জোটবদ্ধভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের যে আইন হয়েছে, সেই আইনে দলীয়ভাবে নির্বাচন করার সুযোগ নেই। আমার মনে হয়, সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা আমরা এখন না করলেও পারি। এই বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’


