দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় আমাল খলিল নামের এক নারী সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। হামলায় তার সঙ্গে থাকা আলোকচিত্রী জেইনাব ফারাজ গুরুতর আহত হন। লেবাননের এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এবং খলিলের কর্মস্থল পত্রিকা আল-আখবার বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ৪৩ বছর বয়সী আমাল খলিলের মৃত্যুতে এদিন লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচজনে। গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-লেবানন ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির পর এটিই সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী হামলা।
এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে তারা জানিয়েছিল, লেবাননে হামলায় দুইজন সাংবাদিক আহত হওয়ার খবর তারা পেয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সামরিক কর্মকর্তা এবং সংবাদকর্মী সংগঠনগুলোর বরাতে রয়টার্স জানায়, খলিল এবং ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী জেইনাব ফারাজ আল-তায়রি শহরের কাছে যুদ্ধপরিস্থিতির খবর সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় তাদের সামনে থাকা একটি গাড়ি ইসরায়েলি হামলার শিকার হলে তারা পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেই বাড়িটিতেও ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালায়।
উদ্ধারকর্মীরা আহত অবস্থায় জেইনাব ফারাজকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন লেবাননের সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রধান এলসি মুফাররেজ। তবে খলিলকে উদ্ধার করতে গেলে ইসরায়েলি বাহিনী ফের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে, ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এই ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং উদ্ধারকাজে বাধা দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে বিচার চাওয়ার জন্য লেবানন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও অভিযোগ করেছে, ইসরায়েলি বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলি ছুড়ে অ্যাম্বুলেন্সের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করেছে। প্রায় চার ঘণ্টা পর উদ্ধারকর্মীরা আবার ঘটনাস্থলে ফিরে আরও প্রায় তিন ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালিয়ে আমাল খলিলের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে কখনো হামলা করেনি। আইডিএফের বক্তব্য অনুযায়ী, দুটি গাড়ি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত একটি সামরিক স্থাপনা থেকে বের হয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সীমান্ত অঞ্চলে প্রবেশ করেছিল এবং সেনাদের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিল। কাজেই তারা সেই দুই গাড়ির একটিকে লক্ষ্যবস্তু করে এবং হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট কাছাকাছি একটি ভবনে হামলা চালায়।
লেবাননের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রথম হামলায় একটি গাড়িতে থাকা দুইজন নিহত হয়েছেন, তবে তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
এর আগে মার্চ মাসে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনজন সাংবাদিক নিহত হয়েছিলেন। সেই সময় ইসরায়েল দাবি করেছিল, তাদের লক্ষ্য ছিল ওই সাংবাদিকদের একজন, যিনি সহশ্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
লেবাননের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে ইসরায়েল সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত দুই হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন।


