গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রীর ৭ দিন রিমান্ড চাইল পুলিশ

গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রীর ৭ দিন রিমান্ড চাইল পুলিশ
ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকসুদার সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।

সোমবার ঢাকার আদালতে নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এ রিমান্ড আবেদন করা হয়। শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুদ্দোহা সরকার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে এই আবেদন করেন।

বেলা আড়াইটার দিকে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে আদালতে আনা হয়। বর্তমানে তাদের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে।

এর আগে রোববার রাতে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করেন। এতে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর গাজী নজরুল ও মাকসুদাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। ওবায়দুর রহমান পলাতক, তাকে খুঁজছে পুলিশ।

ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে মরিয়মের মরদেহ

মামলার এজাহার অনুযায়ী, রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ইসলাম ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত ন্যাম ভবনের বাসায় যেতে বলেন। পরে তিনি মরিয়মের খালা সুফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে যান। সেখানে গিয়ে তারা লোকজনের ভিড় দেখতে পান। মরিয়ম যে কক্ষে ছিলেন, সেটির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। জানালা দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মরিয়মকে ঝুলতে দেখা যায়।

পরে পুলিশ দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

বিয়ের পর নির্যাতনের অভিযোগ

মরিয়মের বাবার করা এজাহারে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মরিয়ম স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের সঙ্গে ন্যাম ভবনের ওই বাসায় থাকতেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ও মাকসুদা মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। বিভিন্ন সময়ে মরিয়ম মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের কাছে এসব নির্যাতনের কথা জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদীর অভিযোগ, স্বামী ও প্রথম স্ত্রীর নির্যাতন এবং আসামিদের প্ররোচনা সহ্য করতে না পেরে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।

বিছানায় হাতে লেখা চিঠি

আরও পড়ুন

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, মরিয়মের বিছানা থেকে একটি হাতে লেখা চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। চিঠিতে বিশ্বাসভঙ্গ, মানসিক কষ্ট ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের বিষয়ে কিছু কথা লেখা রয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে চিঠিটি মরিয়মের নিজের হাতে লেখা কিনা এবং এর সঙ্গে আত্মহত্যার ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

গাড়িচালকের প্ররোচনার অভিযোগ

গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে। মরিয়মের পরিবারের অভিযোগ, ওবায়দুরের প্ররোচনায় গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। পরে গাজী নজরুল ও মাকসুদার নির্যাতন এবং আসামিদের প্ররোচনার কারণে মরিয়ম আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

আগেও ব্যক্তিগত ভিডিও নিয়ে আলোচনা

এর আগে গত জুলাইয়ে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ভিডিওতে থাকা তরুণীকে মরিয়ম খাতুন বলে দাবি করেছিলেন গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, মরিয়ম তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই তাকে বিয়ে করেছেন।

পরে মরিয়মের একটি বায়োডাটা প্রকাশ্যে আসাকে কেন্দ্র করে বিয়ের সময় ও বিভিন্ন তথ্য নিয়ে আলোচনা হয়। ভিডিওটির সত্যতা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ও পাল্টা দাবি ওঠে।

২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল।

পল্লবী থানার মামলাতেও আসামি

মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের দিনই পল্লবী থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের নথি বিচারিক আদালতে জমা দেন গাজী নজরুল ইসলাম।

রোববার দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিননামা দাখিল করেন। এর আগে ১০ আগস্ট হাইকোর্ট ওই মামলায় তাকে আট সপ্তাহের জামিন দেন।

গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান ২১ জুলাই পল্লবী থানায় মামলাটি করেন। এতে গাজী নজরুল ইসলাম ছাড়াও আমিনুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ, মোতাসিম বিল্লাহ ও রাকিবুল হাসানকে আসামি করা হয়।

এজাহারে ওবায়দুর রহমানকে মারধর ও গলা চেপে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগনির সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন>>>

দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যা: এমপি নজরুল ও প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার

এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল, তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি

গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad