আধিপত্য বিস্তার ও বাওড় দখলকে কেন্দ্র করে যশোরের শার্শায় বিএনপি ও যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে শর্টগানের ছররা গুলিতে চারজন আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া ককটেল বিস্ফোরণে দুটি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার কন্যাদহ গ্রামের গাইনপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কন্যাদহ বাওড় ও এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম গাইনের সঙ্গে উপজেলা বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শহিদ আলী এবং শার্শা উপজেলা যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহিদের লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে এর আগেও একাধিকবার দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শহিদ আলীর নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে গাইনপাড়ায় রেজাউল ইসলাম গাইনের বাড়ির সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় তারা অন্তত ১০ থেকে ১২টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে বাবু গাইন ও আনারুলের দুটি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ সময় রেজাউল গাইনের পক্ষের লোকজন প্রতিরোধের চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাদের লক্ষ্য করে শর্টগানের গুলি ছোড়ে। এতে শাহ আলম (৩৮), আবদুল্লাহ (৩২), বকুল (৩৪) ও তার ছেলে শাখিল (১৫) ছররা গুলিতে আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে মশিয়ার মোড়ল (৫৬) নামের এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপি নেতা শহিদ আলী ও যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম শহিদ।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।


