চরম সংকটে পড়েছে জাতীয় মাছ ইলিশের জীবনচক্র। এই মাছের সুরক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকার শত শত কোটি টাকা ব্যয় করলেও ফল মিলেছে উল্টো। ইলিশের আকার ছোট হয়ে যাচ্ছে, কমে যাচ্ছে উৎপাদন। রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজার ও রায়ের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজার ভর্তি ছোট ইলিশ। জিগাতলা ও ধানমন্ডি এলাকার অলিগলিতে ঝুড়ি বোঝাই জাটকা বিক্রি করছে ফেরিওয়ালারা। মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক ফিরোজ আহমেদ বলেন, মাছগুলো বড় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। যদি আরও অন্তত এক বছর সময় দেওয়া হতো, তবে ইলিশ আরও বড় হতো। সংকুচিত হচ্ছে অভয়াশ্রম ইলিশ মাছের অবাধ চলাচল ও নিরাপদে প্রজননের জন্য সরকার বিভিন্ন নদীর বেশ কিছু…
Author: আলীম হায়দার
জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য চালু হয়েছিল উচ্চাভিলাষী ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। পাঁচ বছরে ১৭৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ের পরেও এই প্রকল্পের ফল হয়েছে উল্টো। এই সময়ে ইলিশ উৎপাদন বাড়ার বদলে কমে গেছে। বেড়েছে জেলেদের হতাশা আর প্রকল্পে দুর্নীতি ও অপচয়। প্রকল্প শুরুর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল ৫ লাখ ৫০ হাজার টন। প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল চার বছরের মধ্যে উৎপাদন ৭০ হাজার টন বাড়িয়ে ৬ লাখ ২০ হাজার টনে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু বাস্তবে, লক্ষ্য ও অর্জনের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার টন। ‘প্রাকৃতিক কারণ’, দাবি কর্মকর্তাদের প্রকল্প কর্মকর্তাদের দাবি, মূলত পরিবেশগত কারণেই ইলিশের…
বাংলাদেশে গত এক দশকে জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। অথচ এক বছরেই ইলশের দাম বেড়েছে দ্বিগুনেরও বেশি। খোদ সরকারি তথ্য থেকেই জাতীয় মাছের এমন দাম বাড়ার চিত্র পাওযা গেছে। মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে ২০১৩-১৪ সালে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার টন। ২০২৩-২৪ সালে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ২৯ হাজার টনে। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) তথ্য অনুসারে, এক দশক আগে এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ছিল এক হাজার টাকা। এ বছর ঢাকার বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। আর ছোট সাইজের ইলিশের দাম বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। অর্থনীতির সাধারণ…
মধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে জাতীয় মাছ ইলিশ। এক সময় যা ছিল প্রায় সবার কাছেই সহজলভ্য, নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে এখন সেটি কেনা দুঃসাহসের কাজ। ইলিশের দাম এখন আকাশছোঁয়া। অথচ ইলিশ উৎপাদনে মানুষের কোন বিনিয়োগ নেই, পুরোটাই প্রকৃতির দান। তবে এমন দাম বৃদ্ধিতেও জীবন বাজি রেখে ইলিশ ধরা জেলেদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন নেই। বাড়তি দামের প্রায় কিছুই তাদের জোটে না। ক্রেতার পকেট থেকে বেরিয়ে যাওয়া টাকা চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। মূল্য নির্ধারণের নীতিহীনতা কে ঠিক করে ইলিশের দাম? কেন এর দাম কেবল বাড়তেই থাকে? টাইমস অব বাংলাদেশ সম্প্রতি বরিশাল, ভোলা, ও চাঁদপুরসহ ইলিশ উৎপাদনকারী প্রধান অঞ্চলে একটি অনুসন্ধান চালায়। এতে…
আগামী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তুতে আসছে আমূল পরিবর্তন। এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক ইতিহাস চর্চার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার লক্ষ্যে বেশকিছু পরিবর্তন ও পরিমার্জন আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরিমার্জিত পাঠ্যক্রম অনুযায়ী নতুন বইগুলোতে শুধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে একক ব্যক্তি হিসেবে মহিমান্বিত করার পরিবর্তে ইতিহাসের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অবদানও তুলে ধরা হচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে তাদের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক ইতিহাস চর্চার সংস্কৃতি গড়ে তোলার অভিযোগ আছে। ইতিহাসে অন্যান্যদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারের সময়েও সমালোচনা ছিল। কিন্তু ইতিহাসে যার যা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা, এবারের নতুন বইতে…
ভবঘুরের বেশ আর চোখে ঘোরলাগা দৃষ্টি। মেগাসিটি ঢাকার বিভিন্ন পথেঘাটে এমন ছিন্নমূল শিশু-কিশোরের দেখা মেলে হরহামেশা। সবার কাছে তারা পরিচিত ‘পথশিশু’ নামে। ভিক্ষা, পলিথিন মুখে নিয়ে ‘ড্যান্ডি’ নামক মাদকসেবনের পাশাপাশি চুরি-ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে তাদের অনেকের বিরুদ্ধে। গাড়ির জানালা দিয়ে ছোঁ মেরে মোবাইল নিয়ে ওরা দৌড় দেয় চোখের পলকে। অল্প বয়সী এসব শিশু-কিশোরদের থামাতে মাঝে মাঝেই চলে অভিযান। তবে কখনোই নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি তাদের। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার পাশে সন্ধ্যার আলো-আঁধারিতে ঘোর লাগা চাহনি নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায় কয়েক কিশোরকে। কথা হয় তাদের একজনের সঙ্গে। চারপাশের তীব্র যানজট ও নগরের কোলাহল উপেক্ষা করে একাগ্র চিত্তে পলিথিন ব্যাগে ‘ড্যান্ডি’ ফুঁকছিল…
পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। বিক্ষোভ-আন্দোলনের পরও সিদ্ধান্তে বদল না আসায় শেষ পর্যন্ত আদালতের দারস্থ হয়েছেন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। ঘটনার সূত্রপাত গত ১৭ জুলাই। সেদিন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৫ সালের পঞ্চম শ্রেণির সরকারি বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কেবল দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই-সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় ও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দেশে একসময় প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করার পর মেধা বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হতো। সেখানে মেধাতালিকায় থাকা শিক্ষার্থীরা পেত মাসিক বৃত্তি। তবে ২০০৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী…

