নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর দেশজুড়ে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ আইনশৃঙ্খলা পরস্থিতির অবনতিতে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মনে নির্বাচন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তারা এমন পরস্থিতিকে নির্বাচন বানচালের দুরভিসন্ধি মনে করছেন।
অবশ্য সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠকে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন আয়োজনের কথা জোর দিয়ে বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা। বিএনপি নেতারা তার এই কথায় আস্থা রাখতে চান।
গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। আর তফসিল ঘোষণার পরই স্বতন্ত্র প্রার্থী ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়া, লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বাড়িতে আগুন দিয়ে শিশুকে পুড়িয়ে হত্যা, ময়মনসিংহে পোশাকশ্রমিক দীপু দাসকে হত্যা, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটেছে।
এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে এমন পরিবেশে যথাসময়ে নির্বাচন হবে কি না এ নিয়ে আবারও তৈরি হয়েছে সন্দেহ-সংশয়-অনিশ্চয়তা।
সাধারণ মানুষের মতো রাজনীতিবিদদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক দলসহ সামাজিক সংগঠনের সব নেতাই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলছেন, জাতীয় নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
লন্ডনের সিটি প্যাভিলিয়নে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র থেমে নেই। সামনের নির্বাচনও খুব সহজ নয়। তিনি বলেন, এক বছর আগেও এই সন্দেহ করা হয়েছিল। এক বছর আগের সেই সন্দেহই এখন বাস্তবে হচ্ছে।
মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে চীন-মৈত্রী সম্মেলনের এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গত কয়েকদিনের সহিংস ঘটনায় দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। নির্বাচন আদৌ হবে কি না এ নিয়ে মানুষ আবার নতুন করে ভাবছে।
একই দিন আরেক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, এখনো কিছু ব্যক্তি ও মহল গণতন্ত্রে উত্তরণের এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য ভয়ংকরভাবে চক্রান্ত করছে। বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট অবনতি হয়েছে। নির্বাচনের জন্য যেমন পরিবেশ দরকার সেটি তৈরি করতে সরকারকে আরও সচেতন ও ইতিবাচক কার্যকর ভূমিকা পালন করা দরকার বলেও মনে করেন মির্জা ফখরুল।
অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা ঠেকাতে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, এত ঘটনা ঘটছে; কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সময়মতো পাওয়া যায় না।
মির্জা আব্বাস বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের পর দেশে নানা ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটিয়ে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটছে, যা সেই পরিকল্পিত ছকের ইঙ্গিত দেয়। যারা পত্রিকা অফিস জ্বালিয়ে দিলেন, কতগুলো প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দিলেন এরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার ষড়যন্ত্র করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে জিম্মি করে কিছু রাজনৈতিক দল ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে।


