রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার এক যুবক নিহত হয়েছেন।
নিহত যুবকের নাম মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন (২৫)। তিনি করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল বাগপাড়া গ্রামের ছেলে।
গত ১৮ মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। তবে তার পরিবার মৃত্যুর বিষয়টি বৃহস্পতিবার রাতে নিশ্চিত হয়েছে।
পরিবারের দাবি, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একটি এজেন্সি তাকে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করে। পরে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর এক সপ্তাহের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
পরিবার ও সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চারজন বাংলাদেশি সেনাসদস্যের মধ্যে তিনজন নিহত এবং একজন আহত হন। নিহতদের মধ্যে জাহাঙ্গীর ছাড়াও রয়েছেন মাদারীপুরের মো. সুরুজ কাজী ও কুমিল্লার মো. ইউসুফ খান।
বৃহস্পতিবার রাতে জাহাঙ্গীর হোসাইনের বন্ধু মৃদুল হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। মৃদুলও রাশিয়ায় সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্পে কর্মরত বলে জানা গেছে।
ভিডিও বার্তায় মৃদুল অভিযোগ করেন, ‘এমন দুর্ঘটনার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী আরাফা আল মনোয়ার এজেন্সি। তাদের প্রতারণার কারণেই আমরা তিনজন বন্ধুকে হারিয়েছি।’
জাহাঙ্গীরের ফুফাতো ভাই মো. রমজান জানান, প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে একটি কোম্পানিতে চাকরির আশ্বাস দিয়ে জাহাঙ্গীরকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে প্রথমে তাকে একটি পিগ ফার্মে কাজ করানো হয়। পরে রেস্টুরেন্টে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে জাহাঙ্গীরসহ সাতজন বাংলাদেশিকে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর তাদের জোরপূর্বক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
রমজান বলেন, ‘দুই মাস প্রশিক্ষণের পর যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। সেখানে যাওয়ার সপ্তাহখানেকের মধ্যেই জাহাঙ্গীরসহ তিনজন নিহত হন।’
তিন ভাইবোনের মধ্যে জাহাঙ্গীর ছিলেন সবার বড়। দুই বছর আগে তিনি বাবাকে হারান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং দুই বছর বয়সী এক ছেলে সন্তানের বাবা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি শুধু তার স্ত্রী মাশুকা জানতেন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পরিবারের সঙ্গে জাহাঙ্গীরের শেষ কথা হয়। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, কিছুদিন যোগাযোগের বাইরে থাকতে হবে।
জয়কা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির বলেন, ‘ঘটনাটি শুনে আমি মর্মাহত। জাহাঙ্গীরের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল কবির বলেন, ‘অফিসিয়ালি কোনো তথ্য পাইনি। তবে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হতে পেরেছি।’
এর আগে গত ২ মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় ড্রোন হামলায় একই উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা রিয়াদ রশিদ (২৮) নামে আরেক যুবকের মৃত্যু হয়।


