গাজায় হামাসের হাতে বন্দী জিম্মিদের পরিবারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
নরওয়ের নোবেল কমিটির কাছে তারা এই মাসেই একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠিয়েছেন।
টাইমস অব ইসরায়েল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার প্রশংসা করে পরিবারগুলো তাকে এই সম্মান জানানোর অনুরোধ করেছে। তাদের মতে, বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের ভূমিকা অন্য যে কারও তুলনায় বড় এবং দৃশ্যমান।
ইসরায়েলে জিম্মিদের আত্মীয়দের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হোস্টেজেস অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিজ ফোরাম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা গত শুক্রবার নোবেল কমিটির উদ্দেশে একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে ট্রাম্পকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ‘এই মুহূর্তে বাকি সমস্ত জিম্মিদের মুক্তি ও ভয়াবহ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের বিস্তৃত পরিকল্পনা টেবিলে রয়েছে। আমরা আশাবাদী, আমাদের দীর্ঘ দুঃস্বপ্ন অবশেষে শেষ হবে।’
চিঠিতে ট্রাম্পের প্রশংসা করে আরও লেখা হয়, ‘গত বছর কোনো নেতা বা সংগঠন বিশ্বজুড়ে শান্তির জন্য ট্রাম্পের চেয়ে বেশি অবদান রাখেননি। অনেকেই শান্তির কথা বলেছেন, কিন্তু ট্রাম্প সেটি অর্জন করেছেন।’
তবে নোবেল কমিটির নিয়ম অনুযায়ী, এই আবেদনটি ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন নয়। কারণ, ফোরামটি মনোনয়ন জমা দেওয়ার যোগ্য কোনো সংস্থা নয়। কেবলমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার সদস্য, সাবেক নোবেল বিজয়ী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা প্রার্থী প্রস্তাব করতে পারেন।
চলতি বছরের (২০২৫) পুরস্কারের মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে গত ৩১ জানুয়ারি। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যদি জুলাই মাসে ট্রাম্পকে মনোনীত করেন, তবে সেটি ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কারের জন্য বৈধ হিসেবে গণ্য হবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেট, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের নেতারা যৌথভাবে ট্রাম্পকে মনোনয়ন দিয়েছেন।
এর আগে, ২৮ জানুয়ারি ইসরায়েলি-আমেরিকান আইনবিদ আনাত অ্যালন-বেক তাকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেন।
বর্তমানে গাজায় হামাসের হাতে প্রায় ৪৮ জন জিম্মি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২০ জনের জীবিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। এ পুরস্কারের জন্য এ বছর ৩৩৮ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। নরওয়ের সংসদ কর্তৃক মনোনীত পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারণ করবে।
বিতর্কিত নোবেল ইতিহাস
এ পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা আলফ্রেড নোবেল চেয়েছিলেন, এটি দেওয়া হবে ‘যিনি জাতির মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, স্থায়ী সেনাবাহিনী বিলোপ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সর্বাধিক অবদান রেখেছেন’ এমন ব্যক্তিকে। কিন্তু বাস্তবে পুরস্কারটি বহুবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার ভিয়েতনাম যুদ্ধের যুদ্ধবিরতি করিয়ে পুরস্কার পান, যদিও তার নীতিতেই কম্বোডিয়ায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ হয়েছিল।
অং সান সুচি ১৯৯১ সালে পুরস্কার পান গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে, কিন্তু পরে রোহিঙ্গা গণহত্যার সময় নীরব ভূমিকায় থাকার কারণে সমালোচিত হন।
১৯৯৪ সালে ইসরায়েলের শিমন পেরেস, আইজ্যাক রবিন রবিন এবং প্যালেস্টাইনের ইয়াসির আরাফাত ওসলো চুক্তির জন্য পুরস্কৃত হন, কিন্তু পেরেস নিজেই একাধিক যুদ্ধের নকশাকার ছিলেন।
বারাক ওবামা ‘আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সহযোগিতা জোরদারে অসাধারণ প্রচেষ্টার জন্য’ ২০০৯ সালে পুরস্কার পান। তার ক্ষেত্রেও সমালোচকরা বলেন, ‘তার পুরস্কারটি ছিল ‘অকালপ্রসূত’।


